সংক্রমণ কমছে, সামনে বড় কোন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন না জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

অথর
জে এন এস নিউজ ডেক্স :   কুষ্টিয়া
প্রকাশিত :২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৬:০৪ অপরাহ্ণ | পঠিত : 76 বার
সংক্রমণ কমছে, সামনে বড় কোন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন না জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

টানা দুদিন ধরেই দেশে করোনা সংক্রমণ হার ১১ শতাংশের নিচে রয়েছে। এই মুহূর্তে ঢাকায় সংক্রমণ হার নয় শতাংশের কম। বিভাগওয়ারী সংক্রমণ হারেও ভালো অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। এই মুহূর্তে ঢাকা বিভাগে সংক্রমণ হার দশ শতাংশের কম। ঢাকার চেয়ে সংক্রমণ হার কম শুধুমাত্র খুলনা বিভাগে।

সংক্রমণ হারে শীর্ষে এবং শনাক্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এই বিভাগের ন্যূনতম চারটি জেলায় এখনও দৈনিক ৫০ থেকে একশ’ জনের বেশি শনাক্ত হচ্ছে। রোগী শনাক্তে এখনও শীর্ষে রয়েছে ঢাকা। মহানগরসহ ঢাকা জেলায় সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৬৫২ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, প্রশাসনের নানা প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপে সংক্রমণ হার কমছে। আরও কিছুদিন সংক্রমণ হয়তো কমবে। ১১টি জেলায় এখনও অর্ধশতকের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে, সেখান সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংক্রমণ নিচে নামার এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে কীনা সেটি নির্ভর করছে মানুষের আচরণের ওপর। মানুষ যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে, মাস্ক পড়ে, টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত থাকে এবং সর্বোপরি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকে তাহলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বৃহস্পতিবারের (২ সেপ্টেম্বর) তথ্য অনুযায়ী, সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় মৃত্যু, শনাক্ত ও সংক্রমণ হার কিছুটা বেড়েছে। এই একদিনে দেশে তিন হাজার ৪৩৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের জীবাণু পাওয়া গেছে। এদিন করোনায় ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে; আগের দিন ৭৯ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল অধিদপ্তর।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে নমুনা পরীক্ষা অনুপাতে রোগী শনাক্তের হার ছিল ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ; যা আগের দিন ছিল ১০ দশমিক ১১ শতাংশ। আগের দিন তিন হাজার ৬২ জনের দেহে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোভিড-১৯ বিষয়ক ‘জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি’র সদস্য ও খ্যাতিমান জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. আবু জামিল ফয়সাল বৃহস্পতিবার সংবাদকে বলেন, ‘সংক্রমণ যেকোন সময় বেড়ে যেতে পারে। প্রথমত, ঢাকার বাইরে অনেক জেলায় এখন সংক্রমণ হার বেশি, ওইসব জেলায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম থেমে গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি আছে। দ্বিতীয়ত, সংক্রমণ সারাদেশের গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে গেছে, সেখানে অনেকেই আক্রান্ত হয়েও পরীক্ষা করাচ্ছেন না, আইসোলেশনেও যাচ্ছে না; এসব মানুষ যদি আবার ঢাকায় আসতে শুরু করে সেক্ষেত্রে তাদের মাধ্যমেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে।’

অনেক দেশে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হচ্ছে-উল্লেখ করে ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, ‘পাশের দেশ ভারতে আবার বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের এখানে সংক্রমণ বাড়বে না সেটি নিশ্চিত করে বলা যাবে না। তবে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমগুলো চলমান থাকলে আর হয়তো প্যান্ডেমিক বা বড় আকারের বিপর্যয় নেমে আসবে না; কিন্তু প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম দুর্বল হয়ে গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলেও সেটি হবে এন্ডেমিক (মহামারীর শেষ পর্যায়)।’ জানতে চাইলে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর সংবাদকে বলেন, ‘সংক্রমণ কমছে; আমরা আশা করছি সেটি আরও কমে আসবে। তবে পরিস্থিতির ধারাবাহিক উন্নতি নির্ভর করছে মানুষের আচরণের ওপর। মানুষ যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে, সামাজিক দূরত্ব মেনে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করে, যারা এখনও টিকা নেয়নি তারা যদি টিকা নেয় তাহলে সংক্রমণের ঝুঁকি অবশ্যই কমে আসবে।’

শনাক্ত বেশি ১১ জেলায়

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মহানগরসহ জেলায় ১৮ হাজার ৫৪০টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এই পরীক্ষায় এক হাজার ৬৫২ জনের শরীরে করোনার জীবাণু পাওয়া গেছে। পরীক্ষা বিবেচনায় ঢাকায় সংক্রমণ হার ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ।

ওইদিন বেশি শনাক্ত হওয়া জেলার মধ্যে চট্টগ্রামে ১৪০ জন, ময়মনসিংহে ১১৭ জন, ফরিদপুরে ৫৫ জন, নারায়ণগঞ্জে ৮৬ জন, কক্সবাজারে ৫০ জন, ফেনীতে ৫৫ জন, নোয়াখালীতে ৮৭ জন, ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় ৮৬ জন, দিনাজপুরে ৯৫ জন ও সিলেটে ৫২ জনের দেহে করোনা পেয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

বিভাগভিত্তিক সংক্রমণ হার

ঢাকা বিভাগে একদিনে ২১ হাজার ১৯০টি নমুনা পরীক্ষায় দুই হাজার ৪৮ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এই বিভাগের সংক্রমণ হার ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

ময়মনসিংহ বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৪১১টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এই পরীক্ষায় ১৪১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। ময়মনসিংহে সংক্রমণ হার ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

চট্টগ্রাম বিভাগে একদিনে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে তিন হাজার ৯৭৯টি। এই পরীক্ষায় ৫৬১ জনের দেহে জীবাণু পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামে শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ০৯ শতাংশ।

রাজশাহী বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৩০৬টি নমুনা পরীক্ষায় ১৩২ জনের করোনা পাওয়া গেছে। এই বিভাগে সংক্রমণ হার ১০ দশমিক ১০ শতাংশ।

রংপুর বিভাগে একদিনে এক হাজার ৩৬২টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এতে ১৬৪ জন করোনা রোগী পাওয়া গেছে। রংপুরে সংক্রমণ হার ১২ দশমিক ০৪ শতাংশ।

খুলনা বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে দুই হাজার ১১৯টি। এই পরীক্ষায় ১৯৩ জনের দেহে সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এই বিভাগে সংক্রমণ হার ৯ দশমিক ১০ শতাংশ।

বরিশাল বিভাগে একদিনে ৭৭০টি নমুনা পরীক্ষায় ৮৮ জনের করোনা পাওয়া গেছে। বরিশালে পরীক্ষা অনুপাতে সংক্রমণ হার ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ।

সিলেট বিভাগে ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৮৮৮টি। এতে ১০৯ জনের দেহে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১২ দশমিক ২৭ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণ ও মৃত্যু

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া তিন হাজার ৪৩৬ জনকে নিয়ে দেশে করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৫ লাখ সাত হাজার ১১৬ জন।

এই ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের নিয়ে দেশে করোনায় মোট মারা গেলেন ২৬ হাজার ৩৬২ জন। ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৩ হাজার ২৫টি। দেশে এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৮৯ লাখ ৯১ হাজার ৬৬৪টি। ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন পাঁচ হাজার ৯০১ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ হলেন ১৪ লাখ ৩৭ হাজার ৮৮৫ জন।সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্তের হার ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ। দেশে এ পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৫ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার এক দশমিক ৭৫ শতাংশ।একদিনে করোনায় মারা যাওয়া ৮৮ জনের মধ্যে পুরুষ ৫৪ জন এবং নারী ছিলেন ৩৪ জন। দেশে মোট মৃত্যু হওয়া লোকজনের মধ্যে পুরুষ মারা ১৭ হাজার ৮৪ জন এবং নারী ছিলেন ৯ হাজার ২৭৮ জন।বয়স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একদিনে মারা যাওয়া লোকজনের মধ্যে দুই জনের বয়স ছিল ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে। এছাড়া ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ছয় জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৯ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৩২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে দশ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে আট জন এবং তিনজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল।বিভাগ ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হওয়া লোকজনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন ৩০ জন। অন্যদের মধ্যে চট্টগ্রামে ২৭ জন, রাজশাহীতে পাঁচ জন, খুলনায় সাত জন, সিলেটে দশজন এবং বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে তিন জন করে করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৬৯ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ১৭ জন এবং বাড়িতে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three + eight =