যৌবন হারানোর ক্ষোভে কবিরাজ বাবাকে হত্যা করেন ছেলে : পুলিশ

অথর
জে এন এস নিউজ ডেক্স :   কুষ্টিয়া
প্রকাশিত :২ জুন ২০২২, ১:০৪ অপরাহ্ণ | পঠিত : 72 বার
যৌবন হারানোর ক্ষোভে কবিরাজ বাবাকে হত্যা করেন ছেলে : পুলিশ

লালমনিহাট কালীগঞ্জ উপজেলায় কবিরাজি বাবার চিকিৎসার কারণে যৌবন হারিয়েছে এমন ক্ষোভ থেকে নিজের পিতাকে খুন করেছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। চার বছরের দীর্ঘ তদন্ত শেষে অবশেষে ক্লুলেস হত্যা মামলাটির রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। খুনিকে গ্রেফতার করে স্বীকারোক্তি আদায় করেছে পুলিশের জেলা অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বৃহস্পতিবার দুপুরে লালমনিরহাট জেলা সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে জেলা (সিআইডির) অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইসমাইল পিপিএম (বার) বলেন, ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই কালিগঞ্জ উপজেলার নিথক অচিনতলা এলাকায় গভীর রাতে নিজ শয়নকক্ষে খুন হন গোলাম হোসেন (৪০)। তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় গলায়, কাধে ও ঘাড়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তার বড় ছেলের দায়ের করা মামলায় তদন্ত কাজ শুরু করলেও প্রথম দিকে কোনো রহস্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পরে দীর্ঘ চার বছরে ছয়জন তদন্তকারী কর্মকর্তা ক্লুলেস মামলাটির রহস্য উদঘাটন করতে পারেননি। চলতি বছরের মার্চে ৭ম তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন সিআইডির উপ-পরিদর্শক (এসআই) জায়েদুল ইসলাম জাহিদ। দায়িত্ব নিয়ে এই মামলার সন্দিগ্ধ আসামি গোলাম হোসেনের দ্বিতীয় ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে গত ১০ এপ্রিল আটক করে আদালতে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে সুকৌশলে জিজ্ঞাসাবাদে তার পিতাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
জাহাঙ্গীরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তার বাবা ২০০৯ সালের দিকে কবিরাজি চিকিৎসায় তার যৌন ক্ষমতা নষ্ট করে দেন। পরের বছর বিয়ে করলে বাসর ঘরে তিনি বুঝতে পারেন তার যৌন ক্ষমতা নাই। সেই থেকে স্ত্রীর সাথে এই বিষয়টি নিয়ে মনোমালিন্য শুরু হয়। দীর্ঘ আট বছরের সংসার জীবনে অক্ষমতা নিয়ে স্ত্রীর সাথে কলহ ও বিরোধ লেগে থাকলে পিতার প্রতি ক্ষোভ তৈরি হতে থাকে। এক পর্যায়ে তাকে হত্যা করলে যৌন ক্ষমতা ফিরে পাবেন মনে করে পরিকল্পনা করতে থাকেন। ঘটনার দিন স্ত্রী ঢাকায় গার্মেন্টস এ থাকায় দা নিয়ে গিয়ে তার বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেন।

পরে বাড়ির পাশে গর্ত করে লুকিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করলেও পিতার গোঙানিতে বড় ভাই ও ভাবি আসলে তিনি আর মরদেহ লুকাতে পারেননি। পরক্ষণে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এসময় জেলা সিআইডির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published.