মিরপুরে ইউপি নির্বাচনে বাড়ছে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা অস্থিতিশীল পরিবেশের দায় নেবে কে

অথর
জে এন এস নিউজ ডেক্স :   কুষ্টিয়া
প্রকাশিত :৭ নভেম্বর ২০২১, ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ | পঠিত : 33 বার
মিরপুরে ইউপি নির্বাচনে বাড়ছে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা অস্থিতিশীল পরিবেশের দায় নেবে কে

রুহুল আমিন : আগামী ১১নভেম্ববর অনুষ্ঠিত হবে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ইউপি নির্বাচন, ইতিমধ্যে এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রথম দিকে উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করলেও বর্তমানে মিরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বাড়ছে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা, বিভিন্ন নেতাদের উসকানি মূলক বক্তব্যে মাঠ গরম। স্থানীয় প্রশাসনের দাবী, স্বাভাবিক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। এদিকে ভোট গ্রহণের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে মিরপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ভোটের মাঠ ততই গরম হচ্ছে। সকল চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নির্ঘুম রাত পার করছেন ভোটের চিন্তায়, এবারের নির্বাচনে মিরপুরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকার শক্ত প্রতিপক্ষ মহাজোট সরকারের শরীক দল জাসদের মশাল, তাই এ উপজেলায় এবার বেশ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে সকলেই ধারণা করছেন। তাই প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অধিকাংশ প্রার্থীরা নেমেছেন বাকযুদ্ধে, একে অপরের দিকে ছুড়ছেন কথার বাণ।কিন্তু বাকযুদ্ধের পাশাপাশি মিরপুরের কয়েকটি ইউনিয়নে ইতিমধ্যে ঘটে গেছে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা, বিশেষ করে তালবাড়িয়া,মালিহাদ,বহলবাড়িয়া সহ কয়েকটি ইউনিয়নে প্রতিপক্ষকে হুমকি ধামকির পাশাপাশি কর্মীদের মারধরের ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে গেছ। এসব ঘটনার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় গত কয়েকদিন মিরপুরের কয়েকজন শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য আলোচনায় উঠে এসেছে, এসব বক্তব্যে মধ্যে মালিহাদ ইউনিয়নে দেওয়া এক বক্তব্যে মিরপুর আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী জাসদের মশাল প্রতিকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আঃ হামিদকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে মারার নির্দেশ দেন। এসব বক্তব্য কে কুষ্টিয়ার শান্তি প্রিয় মানুষ ভালো চোখে দেখছে না,গনতান্ত্রিক দলের নেতাদের বক্তব্য কখনোই উসকানিমূলক বক্তব্য হতে পারে না,একজন রাজনৈতিক নেতা কখনোই জনসমক্ষে অন্য কাউকে আঘাত করার নির্দেশ বা হত্যার হুমকি দিতে পারে না,এটা সুস্পষ্ট গনতন্ত্রের পরিপন্থী।এ সব উসকানিমূলক বক্তব্য যদি রাজনৈতিক বক্তব্য হয়ে থাকে তবুও এইসবের ফায়দা লুটবে সন্ত্রাসবাদীরা।এসবের কারনে যদি মিরপুরের নির্বাচনী পরিবেশ যদি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের দিকে যায় তবে তার দ্বায়ভার নেবে কে,এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মানুষের মুখে মুখে,পাশাপাশি শান্তি প্রিয় ভোটাররাও এসব কথায় শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। অন্যদিকে মিরপুরের এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কে কেন্দ্র করে নৌকার মনোনয়ন নিয়েও ছিলো নাটকীয়তা, এবারের নির্বাচনে একজন বর্তমান চেয়ারম্যান ছাড়া আর কেউ নৌকার মনোনয়ন পাননি, তাই এই উপজেলায় একজন বাদে সবাই নতুন, এরমধ্যে আবার পোড়াদহ ইউনিয়নের নৌকার মনোনয়ন প্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে “তিনি রাজাকারের সন্তান “, আরেক জন নৌকার মাঝি হয়েছেন বিএনপি থেকে এসে,এরকম অনেক অভিযোগ আছে নৌকার মনোনয়ন প্রাপ্ত ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে,তাই এসব নিয়ে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।এসব কারণে অনেক আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ের নেতা কর্মীরা নিস্ক্রিয় ভুমিকা পালন করছেন।এ বারের নির্বাচনে এ উপজেলায় নৌকার প্রার্থীদের একসাথে দুই প্রতিপক্ষ কে মোকাবিলা করতে হচ্ছে, একদিকে আছে জাসদ থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিপক্ষ অন্য দিকে আছে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী,আবার যেখানে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী নেই, সেখানে আছে দলের নমিনেশন না পাওয়া অসন্তুষ্ট পক্ষ, তাই মিরপুর উপজেলায় প্রতিটি ইউনিয়নে নৌকাকে জিততে হলে অনেক প্রতিবন্ধকতা পার হতে হবে।ভোটের মালিক জনগন সেই জনগণের কাছে যেতে হবে,নির্বচনী পরিবেশ শান্তি পূর্ণ রাখতে হবে,যাতে করে নির্ভয়ে নিশ্চিন্তে সাধারণ ভোটাররা ভোট কেন্দ্র যেতে পারেন সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে বর্তমানে মিরপুর উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ গোলাম মস্তফা বলেন, বর্তমানে মিরপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে, আগামী নির্বাচনে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মহোদয় যেভাবে নির্দেশনা দেবেন,আমরা সেভাবেই ব্যাবস্থা নিবো।আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্যে নেতারা অনেক কিছু বলে।
সংবাদটি শেয়ার করুন

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five + 10 =