মানসম্পন্ন শিক্ষার অন্তরায়ঃ মেধাবী শিক্ষক সংকট, শিক্ষক নিয়োগ অনিয়ম,শিক্ষকের হাত থেকে বেত কেড়ে নেওয়া সহ নানান অসংগতি

অথর
জে এন এস নিউজ ডেক্স :   কুষ্টিয়া
প্রকাশিত :১০ অক্টোবর ২০২১, ৩:৫১ অপরাহ্ণ | পঠিত : 25 বার
মানসম্পন্ন শিক্ষার অন্তরায়ঃ মেধাবী শিক্ষক সংকট, শিক্ষক নিয়োগ অনিয়ম,শিক্ষকের হাত থেকে বেত কেড়ে নেওয়া সহ নানান অসংগতি

শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড এ কথা সর্বজন স্বকৃীত, তাই তো প্রতিটি দেশ ও জাতি তাদের মেরুদণ্ড শক্ত ও শক্তিশালী করার জন্য নিয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে নিজেদের কে বিশ্বদরবারে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য। আমাদের দেশেও এর ব্যাতিক্রম নয়,আমাদের সরকারও শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য নিচ্ছে নানানরকম পদক্ষেপ কিন্তু শিক্ষা ক্ষেত্রে আমরা কি কাঙ্খিত লক্ষে পৌঁছাতে পেরেছি?বর্তমানে আমাদের দেশে আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় শিক্ষা হার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রতি বছর সার্টিফিকেট ধারী বহু শিক্ষার্থী আমরা পাচ্ছি, কিন্তু এদের মধ্যে নৈতিক ও আদর্শিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে কতো জন কে জাতি পাচ্ছে এপ্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। বর্তমানে বেশির ভাগই মেধাহীন শিক্ষিত সমাজ, যাদের সম্বল একটি সার্টিফিকেট। কিন্তু এই মেধাহীন শিক্ষিত সমাজ গড়ার পেছনের কারন কি, আমাদের দেশে সুশিক্ষার অন্তরায় কি?সময় এসেছে এসব ভেবে দেখবার,একবার ভাবুন এ ভাবে যদি চলতে থাকে তবে আগামী ২০বা ৩০ বছর পরে জাতি হিসেবে আমরা কোথায় থাকবো।যারা আমার এ কথার বিরোধিতা করবেন তাদের সবিনয়ে বললো, স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত একটু ভালো করে খেয়াল করুন, এ সময়ে যে কোনো স্তর থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের সাথে বর্তমানে সেই একই স্তর থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের একটা তুলনা করে দেখেন, তাহলেই আশাকরি পার্থক্য টা বুঝতে পারবেন।অথচ পূর্বের যে কোনো সময়ের চেয়ে বর্তমান সরকার শিক্ষার মান উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি কাজ করে যাচ্ছে তবু্ও ফল আসছে উল্টো। এ বিষয়ে কয়েকটি সমস্যা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় রয়ে গেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীরা শিক্ষকতায় আসতে চাইছেন না,যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা মেধাবী শিক্ষার্থীরা ডিসি, এসপি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কেননা শিক্ষকতা পেশায় ভবিষ্যৎ নেই, ফলে দেশের প্রকৃত মেধাবীরা চলে যাচ্ছে অন্যত্র আর অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীদের বানাতে হচ্ছে শিক্ষক, তার চেয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা আমাদের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। বিশেষ করে আমাদের প্রাইমারি ও মাধ্যমিক স্তরে রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপ ছাড়া শিক্ষক নিয়োগ প্রায় অসম্ভব, এ ক্ষেত্রে আমাদের স্কুল গুলোতে চলে নিয়োগ বাণিজ্য, যে যতো টাকা দিয়ে কর্তৃপক্ষ কে সন্তুষ্ট করতে পারবে চাকরীটা তারই হবে,এ ক্ষেত্রে একজন শিক্ষক হিসেবে তার কতোটুকু যোগ্যতা আছে কি না বা তারচেয়ে বেশী যোগ্য কেউ আছে কি না তা দেখা হয় না।এ ক্ষেত্রে অনেকে বলবেন,বর্তমানে এ সুযোগ নেই এখন সরাসরি বোর্ড নিয়োগ দেয় এন,টি,আর,সি’র মাধ্যমে। কিন্তু এখানেও আছে তেলেসমাতি কারবার, একটু খোজ নিলেই দেখবেন অনেক শিক্ষক আছেন ভুয়া সার্টিফিকেট দেখিয়ে শিক্ষকতা করছেন। সুশিক্ষার অন্তরায় হিসেবে সরকারের আর একটি নীতি বুমেরাং হয়ে দেখা দিয়েছে, তা হলো শিক্ষকের হাত থেকে বেত কেড়ে নেওয়া, অনেক সুধী জন বলেন,”সে দিনই আমাদের সুশিক্ষা ব্যবস্থা শেষ হয়ে গেছে যে দিন শিক্ষকের হাত থেকে বেত কেড়ে নেওয়া হয়েছে “।আজকাল শিক্ষকদের দেখে শিক্ষার্থীরা আর ভয় পাই না,কেনই বা পাবে শিক্ষকেরা তো অন্যায় করলে মারতে পারে না,শিক্ষকরা এখন চাকুরী করেন আর দশটা চাকুরীর মতোই একটা চাকুরী, নির্দিষ্ট একটা সময় ক্লাসে পার করলেই হলো,সরকারী বেতন তো আছে। এথচ এই শিক্ষককে বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগর, এ কেমন কারিগর,যার বাঁকা বস্তুকে সোজা করার ক্ষমতা নেই। এক্ষেত্রে দু-একটি ঘটনা বলি,হটাৎ শহরের সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি দেখতে পেলাম,বিষয় জানতে গিয়ে জানলাম,এটা একজন সন্ত্রাসী শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন তিনি ৯ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে সিগারেট খাওয়ার অপরাধে পিটিয়েছে,হ্যাঁ তাই তো ওই শিক্ষার্থী ওর বাবার টাকায় সিগারেট খেয়েছে তার স্যারের কি?ঘটনা দুইঃ খবর এলো, একজন শিক্ষককে চরম মারধর করেছে ছাত্রের অভিভাবকরা,কারন হলো,এসেম্বলিতে শিক্ষার্থী অশোভন আচরণ করায় তাকে বের করে দিয়েছেন শিক্ষক। এ রকম অনেক নজির আছে। একটা সময় দেখেছি শিক্ষকরা মানুষগড়ার কাজে নিজেদের নিয়োজিত রাখতেন,আর নিজ সন্তানকে অভিভাবকেরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে শিক্ষকদের সর্বোচ্চ অধিকার দিতেন নিজ সন্তানের উপর,তাইতো শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক ছিলো পিতা-সন্তানের সম্পর্ক। আমাদের জাতিকে সুশিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে হলে অবশ্যই শাসন করার ক্ষমতা শিক্ষকদের দিতে হবে।শিক্ষার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপে তৃণমূলের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে,বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, উচ্চ পদস্থ কর্তারা বিদেশে যাচ্ছেন, সেখান থেকে তাদের শিক্ষা পলিসি ধার করে এনে আমাদের শিক্ষকদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন, কিন্তু বিদেশের পলিসিগুলো কতোটা আমাদের দেশের জন্য উপযুক্ত এটা দেখার বা বিচার করার সুযোগ থাকেনা,সেক্ষেত্রে পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়নের ভিতর একটি পার্থক্য থেকে যাচ্ছে, এটাও আমাদের সুশিক্ষা দানের একটি অন্যতম অন্তরায়।আরেকটি সমস্যা আমাদের শিক্ষক সমাজে আছে,তা হলো শিক্ষকদের মান উন্নয়নে বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়,কিন্তু বেশির ভাগ শিক্ষক সেই প্রশিক্ষণ কে কাজে লাগান না,আবার সেটা মনিটরিংও করা হয় না,ফলে যে লাউ সেই কদুর মতো অবস্থা বিরাজ করছে। তাই শুধু শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা দিয়ে স্কুল মুখি করলেই হবে না,তাদের সুশিক্ষা দানের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

মোঃ রুহুল আমিন

সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen + twelve =