ভেড়ামারায় ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা ও ইউএনও পরিচয়ে প্রতারণার চেষ্টা!

অথর
জে এন এস নিউজ ডেক্স :   কুষ্টিয়া
প্রকাশিত :৯ জুন ২০২১, ৯:০০ অপরাহ্ণ | পঠিত : 28 বার
ভেড়ামারায় ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা  ও ইউএনও পরিচয়ে প্রতারণার চেষ্টা!

ডেক্স রিপোর্ট॥ ভেড়ামারায় এক প্রতারক এবার মোবাইল ফোনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কুষ্টিয়ার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের উপসহকারী পরিচালক পরিচয় দিয়ে মিষ্টির দোকান থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে।

রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের কর্মকর্তা পরিচয়ে বাহাদুরপুর ইউনিয়নে কুচিয়ামোড়ার দুই ইউপি সদস্য সাঈদ ও নাজিম কে ফোন দেন। প্রতারক এদেরকে কুচিয়ামোড়া বাজারের রাকিবের মিষ্টির দোকান থেকে টাকা আদায় করতে বলেন। না হলে অনেক টাকা জরিমানা করা হবে, এমনধ হুমকি প্রদাণ করে। বাহাদুরপুর ইউপি সদস্য নাজিম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে আমার কাছ থেকে মিষ্টির দোকানদার রাকিবের মোবাইল নাম্বার চেয়ে নেন ওই প্রতারক। পরে আমার সন্দেহ হলে জানতে চাই স্যার এটাতো আপনার অফিসিয়াল নাম্বার নয়, তখন ওই প্রতারক বলেন, এটা আমার ব্যক্তিগত নাম্বার।বিষয়টি বাহাদুরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসিকুর রহমান ছবি কে জানায়। চেয়ারম্যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীনেশ সরকারকে ফোন দিয়ে সব কিছু জানাতে বলেন। ঘটনার বিস্তারিত শুনে ইউএনও দীনেশ সরকার প্রতারককে ধরতে তাকে তার নির্দেশনা মোতাবেক টাকা নিতে আসতে বলার জন্য নাজিমকে শিখিয়ে দেন। কিন্তু পরে প্রতারকের নাম্বারে ফোন দিয়ে তাকে আর পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসিকুর রহমান ছবি বলেন, ওই প্রতারক ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নাজিম মেম্বারকে ফোন দিয়ে বলেন, আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমার ক্ষমতাবলে কুচিয়ামোড়া বাজারের বড় বড় মিষ্টির দোকানে অভিযান চালাবো। এসময় ওই প্রতারক মিষ্টির দোকানদার রাকিবের নাম উল্লেখ করে নাম্বার চায়। নাজিম মেম্বার তা দিয়ে দেয়। মিষ্টির দোকানদার রাকিবের কাছে ফোন দিয়ে বলে আমি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের উপসহকারী কর্মকর্তা বলছি, অভিযানে যাবো না ২০ হাজার টাকা মোবাইলে পাঠিয়ে দেন। বিষয়টি তার সন্দেহ হলে বিষয়টি রাকিব আমার কাছে এসে জানায়। তার কাছে থেকে ফোন নাম্বার নিয়ে ফোন করলে সে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের উপসহকারী পরিচালক এ পরিচয় দেয়। এবং বলে আপনার এলাকায় বড় বড় মিষ্টির দোকানে অস্বাস্থ্যকরধ পরিবেশে মিষ্টি বিক্রি করছে, এজন্যই জরিমানা করবো। তবে তারা কিছু টাকা দিলে অভিযান আর করবো না। আপনি টাকা আদায় করে পাঠানোর ব্যবস্থাধ করেন। এসময় আমি বলি সমস্যা থাকলে আপনি ব্যবস্থা নিবেন এটা স্বাভাবিক, কিন্তু এমন আপত্তিকর প্রস্তাব কেন দিচ্ছেন? আমার মোবাইলে আপনার কথা রেকর্ড হচ্ছে, এ কথা বলার পর সে আর কোন কথা না বলে ফোনের লাইনটা কেটে দেয়।

বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীনেশ সরকার বলেন, একটি প্রতারক চক্র মানুষের কাছে থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে বিভিন্ন জনের নাম পরিচয় দিয়ে এমন ফন্দি এটেছে। তিনি বলেন, রোববার এক প্রতারক মোবাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের উপসহকারী কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে উপজেলার কুচিয়ামোড়া বাজারের মিষ্টির দোকানদারদের কাছ থেকে টাকা তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি মেম্বরকে বলেন। এরপর বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য মেম্বর নাজিম আমাকে ফোন করেন। চেয়ারম্যান আসিকুর রহমান বিষয়টি জানিয়েছেন। চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিচক্ষণতার জন্য ওই প্রতারক তার উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারেনি। পরে প্রতারকের মোবাইল নাম্বারে ফোন দিয়ে আর তাকে পাওয়া যায়নি। সবাইকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 + sixteen =