ভাইয়া এখানে দেহ বিক্রির হোটেলটা কোথাই একটু বলে দিবেন?

অথর
জে এন এস নিউজ ডেক্স :   কুষ্টিয়া
প্রকাশিত :১০ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ | পঠিত : 152 বার
ভাইয়া এখানে দেহ বিক্রির হোটেলটা কোথাই একটু বলে দিবেন?

কথাটা শুনে বেশ অবাক হয়ে মেয়েটির দিকে তাকালো সোহান। মেয়েটির শরীরে রয়েছে সুন্নাতি বোরখা আর মুখে হিজাব পড়াতে চেহারাটা নুরের ন্যায় চমকাচ্ছে। এমন একটা মেয়ের মুখে হটাৎ দেহ ব্যবসার কথা শুনে সোহানের একদম বিশ্ষাষ হচ্ছিলো না। খেয়াল করলো মেয়েটির চোখে জল। তারমানে মেয়েটি একটু আগে অনেক কান্নাকাটি করেছে। এত সুন্দর একটা মেয়ের চোখে মুখে ভয়ের চিন্হটা সোহানের মনটাকে মোমের মতো গলিয়ে ফেললো। সোহান জানতো মেয়েটিকে এখন শান্ত করতে হবে তারপর তাকে সবকিছু বোঝাতে হবে।
—আপনি সঠিক জাইগাতেই এসেছেন তবে সেখানে যেতে হলে আপনাকে কিছু শর্ত মানতে হবে।
—হ্যা ভাইয়া আমি শর্ত মানতে রাজি আছি। বলুন কি করতে হবে আমাকে?
—তোমার নাম কি?
—ভাইয়া আমার নাম চারু।
—শুনো চারু এখানে হটাৎ করে গেলে তোমার মিত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। জানোইতো এখানে যারা আসে তারা একটু বেশিই শক্তিশালী। তাই তোমাকে ট্রেনিংপ্রাপ্ত হতে হবে।
কথাটা শোনার পর চারু নামক মেয়েটা তার পাশে বসেই কাদতে শুরু করলো। সোহান বুঝতে পেরেছে মেয়েটির শরির একদম পবিত্র। একে শুধু একটু যাচাই করে নিতে হবে।
কিন্তু একে দেখে মনে হচ্ছে,,কথার দ্বারা বোঝানো সম্বব না তাই বুদ্ধি দিয়ে বোঝাতে হবে।চারুর পাশে গিয়ে সোহান চারুকে বললো,,
—যারা নতুন কাজ করতে চাই তারাও সেখানে যেতে পারে শুধু তাকে একটা আবেদন পত্র জমা দিতে হয়।
কথাটা শুনে মুখ তুলে চারু সোহানের চোখের দিকে তাকালো,,
—ভাইয়া সেই আবেদন পত্র কোথাই পাওয়া যাবে?
—আমিও তোমাকে সেই পত্র দিতে পারবো কারন সেখানে আমার নিয়মিত যাওয়া আসা আছে।
—ভাইয়া সেই পত্র আমাকে এনে দিতে পারবেন? তাহলে আপনি যা চান আমি তাই আপনাকে দিবো।
—হ্যা তবে প্রথমত আমার সাথে তোমাকে কয়েকদিন থাকতে হবে। কারন সেই ট্রেনিং আমি নিজেই দিই
কথাটা শুনে চারু বেশ ঘাবড়ে গেলো। এই ছেলে ট্রেনিং দেই তাহলে ইনিতো বেশ খারাপ বদজাত ছেলে। কিন্তু তার যেভাবেই হোক না কেন তাকে পতিতালয়ে যেতেই হবে।
—সমস্যা নাই আমি আপনার সাথে রাত কাটাতে রাজি আছি শুধু আপনি আমার আবেদন পত্রটা এনে দিন।
—ওই যে পাশে একটা হোটেল দেখা যাচ্ছে।সেখান গিয়ে আমার কথা বলুন তাহলে আপনাকে ওরা নিয়ে যাবে।কথা বলে সোহান চারুকে সেখানে যাবার জন্য পাঠিয়ে দিলো।যাবার সময় চারু বললো,,
—ভাইয়া আপনাকে অনেক ধন্যবাদ তবে আপনার নামটা বলেন নি এখনো?
—আমার নাম সোহান আর আমিই আপনার পতিতালয়ে পাঠানোর দায়িত্বে আছি।
কথাটা শেষ করে চারুকে হোটেলে পাঠিয়ে দিলো সোহান।পাশের দোকান থেকে একটা বিয়ার নিয়ে বসে হাসতে লাগলো।তার জিবনে সে এই প্রথম কোনো মেয়েকে দেহ বিক্রির জন্য এতো উত্রেজিত দেখছে।চারুকে দেখে সে বুঝতে পেরেছে চারু এসব নিজ থেকে করছে না।নিশ্চয় এর পিছনে কোনো কারন রয়েছে।এতসুন্দর একটা মেয়ে সইচ্ছাই তার দেহ বিক্রি করছে অথচো সে নিজেই জানেনা।পতিতালয় থেকে মেয়েরা সবসময় পালানোর চেষ্টা করে।
চারুকে প্রথম দেখাতেই তার ভালো লেগেছে।এখন তার একটাই উদ্দেশ্য সেটি হলো চারুর মুখ থেকে পুরো ঘটনাটা শোনা।
এদিকে চারু হোটেলে ঢুকছে আর ভাবছে পরপুরুষে সাথে এটাই তার প্রথম মিলন শুরু।পরক্ষনেই ভাবলো না না সে তো আগেই একজনের সাথে রাত কাটিয়েছে।হোটেলের লোকজন দেখে সে ভয় পেতে থাকলো।সোহান নামের ছেলেটি তার সাথে কিভাবে কি করবে এটা ভাবতেই চারুর বুক ধরফর করে কাপছে।সে শুনেছে তাদের শরিরের বিনিময়ে টাকা দেওয়া হয়।তাহলে সোহান কি তাকে টাকা দিয়ে কিনে নিবে?
ম্যানেজার এসে তাকে এক কোনাই বসতে বললো।চারু ভাবলো হইতো এই হোটেলের ছেলেদের দিয়ে তার ট্রেনিং দেওয়া হবে।
চলুন এদের বিষয়ে কিছু জেনে নেওয়া যাক.,
সোহান হলো এই শহরের সবচেয়ে ধনবান আর ক্ষমতাশালি পরিবারের ছেলে।দেখতে যেমন সুন্দর ঠিক হাতের কাজগুলোও তেমনি।শহর থেকে কিভাবে অন্যায় কাজ বন্ধ করা যাই এটাই তার সবসময়ের ভাবনা।তবে সে বাজে ছেলেপেলের কাছে মাস্তান আর ভালোদের কাছে তার মতো ভালো পোলা একটাও খুজে পাওয়া যাবে না।
দোকান থেকে সোহান কয়েকটা কলা আর বিস্কুট কিনে পাশের ফুটপাতে গিয়ে একটা অসহায়ের পাশে খাবারগুলো রেখে হোটেলের দিকে রওনা দিলো।তার চোখে কারো কষ্ট একদম সহ্য হয়না।
ওদিকে হোটেলের এক কোনে চারু চুপচাপ বসে রয়েছে।তার চারপাশে কয়েকটা বাজে ছেলেরা তার প্রতি উকি দিচ্ছে যার কারনে ভয়ে সে শেষ প্রান্তে বসে রয়েছে।তার একটাই চিন্তা তার সাথে খারাপ আচরন করার যেন সেটা ভিডিও না করা হয়।সোহানকে তো দেখতে বেশ ভদ্র ছেলের মতোই দেখাচ্ছিলো।কিন্তু সে যে মেয়েদের পতিতালয়ে পাঠানোর ট্রেনিং দেই এটা চারুর জানা ছিলোনা।
সোহান হোটেল ঢুকতেই হোটেল থেকে সব ছেলেরা ভয় পেয়ে বের হয়ে আসলো।সোহান চারুর সামনে দু কাফ কফি রেখে পাশের চেয়ারে বসতেই চারু কিছুটা ভয়ে আতকে উঠলো,,
—সোহান ভাইয়া তাহলে এখন আমাকে কি করতে হবে?(তোতলা ভাবে)
—চারু আমি একটু আগেই বসের সাথে কথা বলেছি।সে বললো, সুন্দরী মেয়েরা নাকি টাকা বেশি পেলেই সেই ছেলের সাথে পালিয়ে যায়।তাই সুন্দরী মেয়ে নিতে হলে সবকিছু খুলে তাদেরকে বোঝাতে হবে।
—কিন্তু ভাইয়া এতো মানুষের সামনে কিভাবে জামা কাপড় খুলবো?(মাথা নিচু করে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published.