প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে নতুন সরকার ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে তালেবান

অথর
জে এন এস নিউজ ডেক্স :   কুষ্টিয়া
প্রকাশিত :২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৬:১৯ অপরাহ্ণ | পঠিত : 62 বার
প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে নতুন সরকার ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে তালেবান

আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় পর দেশে ২০ বছরের যুদ্ধের বিশৃঙ্খল পরিসমাপ্তি এবং টালমাটাল অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যেই নতুন সরকার ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে তালেবান।

নতুন সরকার ঘোষণা করতে রাজধানী কাবুলের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে বলে স্যোশাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন তালেবান নেতা আহমাদুল্লাহ মুত্তাকি।

ওদিকে, তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, তিনি সঠিক দিনক্ষণ বলতে পারছেন না। তবে সরকার ঘোষণা কয়েকদিনের ব্যাপার মাত্র।

তালেবানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গতমাসে বলেছিলেন, নতুন শাসন পরিচালনাকারী কাউন্সিলের ওপর চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকতে পারে তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুনজাদার।

আখুনজাদার তিন ডেপুটি বা উপনেতা আছেন। তাদের একজন, মোল্লা ইয়াকুব। তিনি তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ছেলে। আরেকজন হচ্ছেন, সিরাজুদ্দিন হাক্কানি। হাক্কানি নেটওয়ার্কের নেতৃত্বে আছেন তিনি। আর তৃতীয়জন হচ্ছেন, তালেবানের অন্যতম সহপ্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আবদুল গনি বারাদার।

সরকারে তিনজনই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকবেন বলে মনে করা হচ্ছে। সংঘাত বিধ্বস্ত এবং খরা পীড়িত আফগানিস্তানের অর্থনীতির জন্য আন্তর্জাতিক দাতাদের পাশাপাশি বিনিযোগকারীদের চোখে নতুন আফগান সরকারের বৈধতার বিষয়টি হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

যেসব বিদেশি এবং আফগান দেশ ছেড়ে যেতে পারেনি তাদের জন্য একটি সেফ প্যাসেজের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি তালেবান দিয়েছে। কিন্তু কাবুল বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় অনেকেই সীমান্ত পেরিয়ে পাশের দেশগুলোতে ঢোকার চেষ্টায় আছেন।

কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন তালেবানের সঙ্গে কাতারের আলোচনা চলছে এবং কাবুল বিমানবন্দর আবার সচল করতে কারিগরি সহায়তা দেওয়া নিয়ে তুরস্কের সঙ্গেও কাজ চলছে। বিমানবন্দর চালু হলে মানবিক সহায়তা পাওয়া এবং মানুষকে দেশ ছেড়ে যেতে দেওয়াও সহজ হবে।

দোহায় কাতারের মন্ত্রীর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক তৃতীয় একটি দেশের মধ্য দিয়ে সেফ প্যাসেজের ব্যবস্থা করার জন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছেন।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, কাবুল বিমানবন্দর সচল করা এবং বিদেশি নাগরিকদের জন্য সেফ প্যাসেজ এবং সীমান্ত এলাকায় আফগানদের বিষয়টি আলোচনার শীর্ষে আছে।

আফগানিস্তানে ২০০১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানে তালেবান উৎখাত হওয়ার আগে কঠোর শরিয়া আইন চালু ছিল। অনির্বাচিত নেতাদের একটি কাউন্সিল শাসন পরিচালনা করত।

কিন্তু এবার তালেবান আফগানিস্তান দখলের পর বিশ্ববাসীর সামনে মধ্যপন্থার শাসনব্যবস্থা চালুর ভাবমূর্তি তুলে ধরেছে। কারও ওপর প্রতিশোধ না নেওয়া এবং মানবাধিকারের সুরক্ষারও প্রতিশ্রতি তারা দিয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং অন্যান্যরা তালেবানের এই আশ্বাস নিয়ে সন্দিহান। তারা বলছে, নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং অর্থনৈতিক সাহায্যের বিষয়টি তাদের কর্মকা-ের ওপর নির্ভর করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রবিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “আমরা তাদের কথা নয়, কাজ দেখব। সুতরাং তাদের অনেককিছুই প্রমাণ করার আছেৃঅনেককিছু অর্জন করারও আছে, যদি তারা আগেরবারের তুলনায় অনেকটাই ভিন্নভাবে আফগানিস্তান শাসন করতে পারে।”

ইউরোপীয় কমিশনের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগর বিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক গানার ওয়েগ্যান্ড বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবানকে স্বীকৃতি দেবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা সবার অংশগ্রহণমূলক একটি সরকার গড়ছে, মানবাধিকারকে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং ত্রাণকর্মীদেরকে অবাধে কোজ করতে দিচ্ছে।

ওদিকে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব বলেছেন, আফগানিস্তান নিয়ে তালেবানের সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা আছে। তবে এখুনি তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা যুক্তরাজ্যের নেই।

সূত্র: সংবাদ

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − 5 =