পরীমনির ঘটনায় ষড়যন্ত্রের ছায়া দেখছেন তসলিমা নাসরিন

অথর
জে এন এস নিউজ ডেক্স :   কুষ্টিয়া
প্রকাশিত :২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৭:১৭ অপরাহ্ণ | পঠিত : 67 বার
পরীমনির ঘটনায় ষড়যন্ত্রের ছায়া দেখছেন তসলিমা নাসরিন

২৬দিন জেলে কাটানোর পর বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) জামিনে ছাড়া পেয়েছেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনি। তবে জেল থেকে বের হয়েও রেহাই নেই। প্রতিবেশীদের অভিযোগে অভিনেত্রীকে বাড়ি থেকেই উৎখাত করেছেন তার বাড়িওয়ালা।

অসহায় পরীমনির প্রশ্ন ‘এখন আমি কোথায় যাব?’ কঠিন পরিস্থিতিতে ফের একবার তার পাশে দাঁড়ালেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন । গোটা ঘটনায় ‘ষড়যন্ত্র’র ছায়া দেখছেন তসলিমা। পরীমনির প্রসঙ্গ ধরেই টেনে এনেছেন তার নিজের কথা।

একসময় বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছিলেন তসলিমা কিন্তু এই বাংলাও ছাড়তে হয় তাকে, ছিল খোদ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ। সেসময় ঠিক একইভাবে পরীমনির মতোই অসহায় বোধ করেছিলেন লেখিকা। তার কথায়,

”মনে পড়ছে, কলকাতার সেই দিনগুলোর কথা। ৭ নম্বর রওডন স্ট্রিটে ডাক্তার দেবল সেনের বাড়িতে আমি তখন ভাড়া থাকি। ২০০৭ সাল। পুলিশ কমিশনার এসে জানিয়ে যাচ্ছেন আমাকে দেশ ছাড়তে বলছেন মুখ্যমন্ত্রী, দেশ যদি আপাতত না-ও ছাড়ি, রাজ্য আমাকে আজ বা কালের মধ্যেই ছাড়তে হবে। দেশের দরজা বহুকাল বন্ধ। ইউরোপ ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রাণের টানে আর ভাষার টানে আশ্রয় নিলাম, আর আমাকে কিনা এই আশ্রয়টিও ছাড়তে হবে, কোথাও তো আর ঘর বাড়ি নেই আমার, যাবো কোথায়!”

তসলিমা তার লেখায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রয়াত লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও। তিনি লিখেছেন, ”সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় যখন ফোন করে বললেন আমাকে রাজ্য ছাড়তেই হবে, বুঝলাম যাদের উচিত ছিল পাশে দাঁড়াবার, তারাই পাশে দাঁড়াচ্ছেন না। কলকাতা তো দেখিয়ে দিয়েছে লেখকেরা কী করে আরেক লেখকের বই নিষিদ্ধ করার দাবি জানায়, লেখকেরা কী করে আরেক লেখকের সর্বনাশ করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে।”

তসলিমার আরও অভিযোগ, ”চারদিক থেকে যখন অন্ধকার নেমে আসছে, তখন আমার বাড়িওয়ালা আমাকে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিয়েছিলেন! সম্ভবত মুখ্যমন্ত্রীই বাড়িওয়ালাকে বলেছিলেন ওই নোটিশটি দিতে। ষড়যন্ত্র কতটা ভয়ংকর হতে পারে, তা সেদিন হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলাম।”

তসলিমার কথায়, ”পরীমনির অসহায়তা আমি অন্তর দিয়ে অনুভব করছি।” তবে তার বিশ্বাস, ”পরীমনির শত্রু যেমন কম নয়, অনুরাগী শুভানুধ্যায়ীও তেমন কম নয়, তারা এই দুঃসময়ে তার পাশে দাঁড়াবে, আমার বিশ্বাস।”

তবে শুধু পরীমনি কেন, বৃহস্পতিবার নিজের পোস্টে নুসরাতের প্রসঙ্গ তুলে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রতি আরও একবার ক্ষোভ উগরে দেন তসলিমা । নুসরাত ও পরীমনি যে সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, সেটা শুধু তাদের একার নয়, আরও অনেক মেয়ের সমস্যা। নুসরাতের সন্তানের পিতা কে? মানুষজনের এই কৌতুহলকেই কটাক্ষ করেছেন লেখিকা।

তার কথায়, ”পিতৃতান্ত্রিক সমাজে পিতার পরিচয়, খুব স্বাভাবিকভাবেই, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মায়ের কোনও পরিচয় নেই বলে মায়ের পরিচয়ের কোনও গুরুত্ব নেই।” লিখেছেন, ”যে পুরুষটি নুসরতের সারাক্ষণের সঙ্গী, নুসরত আর নবজাতকের সেবাযত্ন করছে, সে পুরুষটিই সন্তানের পিতা, এ কিন্তু সমাজের লোকেরা অনুমান করে নিয়েছে। সুতরাং নুসরাত নিজে না জানালেও মানুষ কোনও না কোনওভাবে বুঝে নিয়েছে কে পিতা। যদি যশ দাশগুপ্ত নামক পুরুষটি না থাকতো সঙ্গে, তাহলে নুসরাত যে সমর্থন পাচ্ছে, তাও হয়তো পেত না।”

তসলিমা লিখেছেন, ”যৌন স্বাধীনতা যদি মেয়েরা পেয়ে যায়, তাহলে পিতৃতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়বে। সে কারণেই নিজেদের যৌন স্বাধীনতা সম্পূর্ণ উপভোগ করেও মেয়েদের যৌন স্বাধীনতার বিরোধী পুরুষেরা। সে কারণেই পুরুষের বহু বিবাহ বৈধ, কিন্তু মেয়েদের বহু বিবাহ বৈধ নয়।” মেয়েদের যৌন স্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করে লেখিকা লিখেছেন, ”মেয়েদের যৌন স্বাধীনতা মানে এই নয় যে তারা যত্রতত্র যৌন সম্পর্ক করবে। মেয়েদের যৌন স্বাধীনতা মানে তারা তাদের শরীরের ব্যাপারে, যৌনতার ব্যাপারে নিজেরা সিদ্ধান্ত নেবে। নিজেদের জরায়ুর ওপর থাকবে নিজেদের অধিকার, অন্য কারও নয়। কারও বংশ রক্ষার দায় মেয়েদের থাকবে না।”

তবে এই প্রথম নয়, এর আগেই নারী স্বাধীনতা ও পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বিরুদ্ধে গিয়ে বহুবার সওয়াল করেছেন তসলিমা নাসরিন । এমনকি নুসরাত জাহানের অন্তঃসত্ত্বা হওয়া নিয়ে যখন জোর চর্চা শুরু হয়, সেই প্রথম থেকেই সাংসদ, অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে একাধিকবার সুর চড়িয়েছেন তসলিমা, এমনকি বাংলাদেশের পরীমনি বিতর্কেও প্রথম থেকে সরব হয়েছেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 + 11 =


আরও পড়ুন