দুর্নীতির আঁতুড়ঘরে পরিণত হতে চলেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস

অথর
জে এন এস নিউজ ডেক্স :   কুষ্টিয়া
প্রকাশিত :১৭ এপ্রিল ২০২২, ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ | পঠিত : 92 বার
দুর্নীতির আঁতুড়ঘরে পরিণত হতে চলেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস

দুর্নীতির আঁতুড়ঘরে পরিণত হতে চলেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস। চাকরির পাশাপাশি ফায়ার এক্সটিংগুইশার রিফিলিং এর সেন্টিগ্রেড চালাচ্ছেন বেশকিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গোপন সূত্রের ভিত্তিতে সরোজমিনে তদন্তে যাই দৈনিক জয়যাত্রা পত্রিকার স্পেশাল টিম। কুমারখালীর আইসক্রিম ফ্যাক্টরি পরিদর্শনকালে তথ্যের সত্যতা মেলে। বের হয়ে আসে কুষ্টিয়া কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস এর ওয়্যার হাউজ ইনস্পেক্টর মোঃ বখতিয়ার উদ্দিন এর নাম। আরও তথ্য সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে কুমারখালীর প্রাণ আইসক্রিম কারখানাতে গেলে, মেলে নিষ্ক্রিয় ফায়ার এক্সটিংগুইশার। সিলিন্ডারের উপরে থাকা মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ ঘষামাজা করে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২২ সাল পর্যন্ত। মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ কলম দিয়ে কাটাকাটি করার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাণ আইসক্রিম ফ্যাক্টরির মালিক বলেন, এইসব সিলিন্ডার বিষয়ে আমি বেশি কিছু বুঝিনা। ফায়ার সার্ভিসের স্যাররা সবকিছু করেন। মেয়াদ উত্তীর্ণ সিলিন্ডারটি বিপদের সময় কাজ করবে কিনা জানতে চাইলে কারখানার মালিক চ্যালেঞ্জ করেন সিলিন্ডারটি অবশ্যই কাজ করবে। সিলিন্ডার টি কাজ করলে ফ্রি রিফিলিং করে দেওয়া হবে বলে কারখানার মালিক কে ফাঁকা জায়গাতে নিজ হাতে পরীক্ষা করার জন্য বলা হয়। কারখানার মালিক সিলিন্ডারটি সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহারের জন্য সিলিন্ডারের টিগার প্রেস করেন কিন্তু সিলিন্ডারটি কাজ করে না। সিলিন্ডারের মধ্যে থাকা কোন ড্রাই কেমিক্যাল পাউডার বা গ্যাস নির্গত হয় না। সেই সময় সিলিন্ডার রিফিল বিষয়ে আইসক্রিম কারখানার মালিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আসলে আমরা তো বুঝি না এইগুলা। অল্প কিছুদিন আগে ফায়ার সার্ভিসের এক স্যার এসে দেখেছেন, আর বলে গিয়েছেন সবকিছু ঠিক আছে। তাই আমি আপনাদের সাথে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। এই ফায়ার সিলিন্ডার রিফিলিং করার জন্য ফায়ার সার্ভিসের স্যার সিলিন্ডার নিয়ে যায়। আবার দুই এক দিন পরে ঠিকঠাক করে দিয়ে যায়। কুমারখালীর মধুরুচি আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে ও কুমারখালী ওয়্যার হাউস ইনস্পেক্টর মোঃ বখতিয়ার উদ্দিন এর নাম জানা যায়। মোঃ বকতিয়ার উদ্দিনের সাথে সাক্ষাত করার জন্য কুমারখালী ফায়ার সার্ভিসের গেলে দেখা মেলেনি তার সাথে। জানা যায় ছুটিতে আছেন বকতিয়ার। ফায়ার সার্ভিস থেকে ফিরে আসার সময় চোখ পরে ফায়ার সার্ভিসের ভিতরে লাগানো ফায়ার এক্সটিংগুইশার এর ওপরে। রিফিলকৃত প্রতিষ্ঠান নাম মুদ্রিত মেয়াদ উত্তীর্ণের স্টিকার এর ওপরে রিফিলিং এর তারিখ ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ এর ঘর সম্পূর্ণটা সাদা। মেয়াদ উত্তীর্ণের কোন তারিখ লেখা নেই। কোন সিল বা সিগনেচার নেই স্টিকার এর উপর। “উল্লেখ প্রযোজ্য” ফায়ার সার্ভিস এর ভিতরে ফায়ার এক্সটিংগুইশার এর উপরের স্টিকার ও সকল আইসক্রিম ফ্যাক্টরি সিলিন্ডারের ওপরের স্টিকার একই কোম্পানির। কোম্পানির নাম দেওয়া এম এন এন্টারপ্রাইজ, ঠিকানা: চাঁদ মোহাম্মদ রোড। তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন দৈনিক জয়যাত্রা পত্রিকার সত্য পিপাসুক টিম, লক্ষ্য এম এম এন্টারপ্রাইজ। সরোজমিনে পৌঁছে উক্ত প্রতিষ্ঠানের নামের কোন সাইনবোর্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। উল্লেখিত সকল বিষয়ে কুমারখালী ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউস ইনস্পেক্টর মোঃ বক্তিয়ার উদ্দিন এর সাথে মুঠোফোন যোগে কথা হলে তিনি সমস্ত বিষয় অস্বীকার করেন এবং বলেন আমি এখানে এসেছি বেশিদিন হয় নাই। আমার আগে যে সকল স্যার ছিলেন তারা এই বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। মোঃ বকতিয়ার কুমারখালী ফায়ার সার্ভিসের সিলিন্ডারের ওপরে কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ নেই’ এই বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিলেন না ও বললেন অবশ্যই আমাদের স্টেশনের সিলিন্ডারের ওপর মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ লেখা আছে। যার বাস্তব চিত্র সরেজমিনে দেখে এসেছেন দৈনিক জয়যাত্রা পত্রিকা টিম। উক্ত সার্বিক বিষয় নিয়ে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান বিডি ফায়ার ফাইটিং এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একজন অফিসার বেশিদিন একই স্থানে থাকলে বেশি বেশি ক্রাইম করার সুযোগ পেয়ে যায়। এমন অল্প কিছু অসাধু অফিসারদের জন্য চরম ভোগান্তি হতে হয় সাধারণ জনগণকে। ধারাবাহিক প্রতিবেদনের পরবর্তী পর্ব দেখতে চোখ রাখুন দৈনিক জয়যাত্রা পত্রিকার পরবর্তী সংখ্যা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published.