শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, উন্নয়নের নামে টাকা আত্মসাৎ সহ নানা অভিযোগ প্রধান শিক্ষক আঃ রশিদের বিরুদ্ধে

দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর

অথর
জে এন এস নিউজ ডেক্স :   কুষ্টিয়া
প্রকাশিত :১৬ জুন ২০২১, ২:০৭ অপরাহ্ণ | পঠিত : 313 বার
দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর আঃ রশিদ

ডেক্স রিপোর্ট।। শিক্ষা জাতীর মেরুদণ্ড আর শিক্ষক হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর, সেই কারিগর যদি প্রকৃতপক্ষে অসৎ হন তবে তিনি সৎ মানুষ গড়তে পারবেন না,ফলে জাতি পথ হারিয়ে বিপথে পরিচালিত হবে, তাই বিশেষ করে শিক্ষকদের নৈতিক অবক্ষয়ের কোনো সুযোগ নেই। এক সময়ের শিক্ষার বাতিঘর নামে পরিচিত খাসমথুরাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় টি বর্তমানে অনিয়ম আর দূর্নীতির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যে যেভাবে পারছে,যার যেখানে ক্ষমতা আছে সেখানেই লুটেপুটে খাচ্ছে স্কুলটিকে, স্কুলটিতে চলছে ক্ষমতার অপব্যবহার। শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম,ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে টাকা উত্তলন, স্কুলের উন্নয়নের নামে টাকা লোপাট,শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় সহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আঃ রশিদ। অনুসন্ধানে জানা যায়, এখানে ছাত্র – ছাত্রীদের রেজিষ্ট্রেশন “ফি ” সরকারের বেধে দেওয়া সিমারেখা ছাড়িয়ে আদায় করা হয় কয়েকগুণ বেশি টাকা।বর্তমানে করোনা কালিন সাধারণ মানুষের দুঃসময়েও ছাত্র ছাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে বেশি টাকা,৮ ম শ্রেনীর ছাত্র – ছাত্রীদের কাছ থেকে জানা গেলো,এ বছর তাদের নিকট থেকে আদায় করা হচ্ছে ৭৫ টাকার জায়গায় ২৫০ টাকা।এ ছাড়াও ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অনলাইন করার খরচ বাবদ অবৈধভাবে বাড়তি টাকা আদায় করা হয়েছে।করোনা কালিন সময়ে অনলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত শিক্ষাদনের কথা থাকলেও সেক্ষেত্রে তা যথাযথভাবে পালন করা হয়নি,ফলে উক্ত স্কুলের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পরেছে শিক্ষা কার্যক্রমে। এসবের বাইরেও আছে অনেক অনিয়ম, স্কুলের নামে ভুয়া বিল/ ভাউচার দেখিয়ে টাকা উত্তলনের অভিযোগ আছে উক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক আঃ রশিদের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি মথুরাপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হওয়ায় এর জায়গার উপর দ্বিতল ভবন নির্মাণ করে মার্কেট নির্মাণ করে দোকান,ব্যাংক সহ বিভিন্ন বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিকট ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা আয় হয়,যার কোনো স্বচ্ছ হিসাব নেই। এ ছাড়াও প্রধান শিক্ষক আঃ রশিদের বিরুদ্ধে গত বছর স্কুল মার্কেটের দোতালায় পুরাতন অগ্রণী ব্যাংক ভবণ নির্মান ও তৃতীয় তলায় ইসলামী ব্যাংক ভবণ নির্মানের জন্য ২৭ লক্ষ টাকা ব্যায় দেখানো হলেও এদুটি ভবন নির্মাণে অন্তত ১০ লক্ষ টাকা কারচুপি করার অভিযোগ আছে। এ ছাড়াও বর্তমানে স্কুলে মাটি ভরাটের কাজেও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে,সুত্রমতে সরকারীভাবে ২ লক্ষ টাকার মাটি ভরাটের কাজ আসে,এ কাজের ঠিকাদার হিসেবে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ টিপু নেওয়াজ ১৫/২০ হাজার টাকার মাটি ফেলে দায়সারাভাবে কাজ করেন,বর্তমানে স্কুলের মাঠে যে মাটি ফেলে হচ্ছে তার বিল পরিশোধ করা হচ্ছে স্কুলের নিজস্ব ফান্ডের টাকা থেকে,যা একে বারেই অনৈতিক ও দূর্নীতি। এ ছাড়াও প্রধান শিক্ষক আঃ রশিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে যে, ইতিমধ্যে উক্ত স্কুলের আলোচিত এনটিআরসিএ এর জাল সনদে চাকুরীরত তুহিনুজ্জামান লেলিনের নিয়োগদানেও আছে মোটা অংকের টাকা লেনদেন হয়েছে প্রধান শিক্ষকের সাথে, তা না হলে একজন প্রমাণিত জাল সনদধারী শিক্ষককে বাচাতে দৌড় ঝাপ করতেন না।এই অভিযুক্ত শিক্ষক তুহিনুজ্জামান লেলিনের বিরুদ্ধে মিডিয়াতে সংবাদ প্রকাশ হলেও এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনা মানতে চান না এই প্রধান শিক্ষক মোঃ আঃ রশিদ। যে ভাবেই হোক তিনি ভুয়া সনদধারী শিক্ষক তুহিনুজ্জামান লেলিন কে বাচাবেন,এমনই মনে হচ্ছে তার কার্যক্রম দেখে।এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীরা দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন, প্রধান শিক্ষক আঃ রশিদের শিক্ষকতা করার আগের জিবনের সম্পদ এবং প্রধান শিক্ষক হিসাবে দ্বায়িত্ব পালনের পর বর্তমানে তার মোট সম্পদের পরিমাণের হিসাব করলেই বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল,প্রমাণ মিলবে প্রধান শিক্ষক আঃ রশিদের দূর্নিতীর খতিয়ান,তাই স্কুলটি বাঁচাতে প্রধান শিক্ষক আঃ রশিদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহবান এলাকাবাসীর। এ-সব বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য প্রধান শিক্ষকের ব্যাবহৃত মোবাইলে একাধিক বার কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × three =


আরও পড়ুন