জরুরি বিভাগে ডাক্তারের টেবিলের ওপর ঘুমিয়ে আছে কুকুর, ছবি ভাইরাল

অথর
জে এন এস নিউজ ডেক্স :   কুষ্টিয়া
প্রকাশিত :১০ আগস্ট ২০২১, ১:৪৫ অপরাহ্ণ | পঠিত : 108 বার
জরুরি বিভাগে ডাক্তারের টেবিলের ওপর ঘুমিয়ে আছে কুকুর, ছবি ভাইরাল

অসুস্থ শাশুড়িকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসেছিলেন সুমন শেখ (৩৫) নামের এক যুবক। জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখেন চিকিৎসক, নার্স বা কর্তব্যরত কোনো ব্যক্তি নেই। চিকিৎসকের টেবিলের ওপর শুয়ে আছে একটি কুকুর। এই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করেন সুমন শেখ। পরবর্তীতে তিনি ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ আইডি থেকে পোস্ট করেন। মুহূর্তেই ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায়। ভাইরাল হওয়া ছবিটি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের। রোববার (৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ১১টা সুমন শেখ ছবিটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন।

সুমন শেখ উপজেলার পিঞ্জুরী গ্রামের মৃত মইয়ার আলী শেখের ছেলে। এ ঘটনায় সুমন শেখসহ অনেকেই ওই রাতে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে এ ঘটনায় ফার্মাসিস্ট দিপক বিশ্বাস ও নৈশপ্রহরী হালিম শেখকে কারণ দর্শানো (শোকজ) নোটিশ দিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুশান্ত বৈদ্য। যথেষ্ট কারণ দেখাতে না পারলে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, ওই রাতে (৮ আগস্ট) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাজিয়া সুলতানা লোপা, ফার্মাসিস্ট দিপক বিশ্বাস ও নৈশপ্রহরী হালিম শেখ জরুরি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু জরুরি বিভাগে কেউ না থাকায় একটি কুকুর চিকিৎসকের টেবিলের ওপরে উঠে ঘুমিয়ে পড়ে।

ওইদিনের ঘটনার বিষয়ে সুমন শেখ বলেন, ‘রোববার দিবাগত রাত ১১টার দিকে আমার অসুস্থ শাশুড়িকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসি। জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখি কেউ নেই। চিকিৎসকের টেবিলের ওপরে একটি কুকুর ঘুমিয়ে আছে। আমি তখন এই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করি। এরপর অনেক ডাকাডাকির পর ফার্মাসিস্ট দিপক বিশ্বাস ও নৈশপ্রহরী হালিম শেখ এসে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসককে ডেকে আনেন। এরপর ডা. রাজিয়া সুলতানা লোপা আমার শাশুড়ির চিকিৎসা করেন। আমি দায়িত্বে অবহেলাকারীদের শাস্তি দাবি করছি।

তিনি আরও বলেন, ‘এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও কর্তব্যরত ব্যক্তিদের সবার আচারণই খারাপ। এরা অধিকাংশ সময়ই রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এদের আচার-আচারণের কারণে অনেক রোগীই এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন না। আমরা চাই এরা সেবার মনোভাব নিয়ে আমাদের চিকিৎসা করুক।’

ফার্মাসিস্ট দিপক বিশ্বাস বলেন, ‘আমি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফার্মাসিস্ট পদে চাকরি করি। জনবল কম থাকার কারণে আমাকে জরুরি বিভাগে ডিউটি করতে হয়। ওই রাতে অল্প সময়ের জন্য আমি ও নৈশপ্রহরী হালিম শেখ জরুরি বিভাগের পাশে ১০২ নম্বর রুমে গিয়েছিলাম। এরই ফাঁকে জরুরি বিভাগের টেবিলের ওপর একটি কুকুর উঠে ঘুমিয়ে পড়ে। আমি এসে কুকুরটি দেখতে পেয়ে তাড়িয়ে দেই।’

জানতে চাইলে ডা. রাজিয়া সুলতানা লোপা বলেন, ‘জরুরি বিভাগ দেখার দায়িত্ব ফার্মাসিস্ট ও নৈশপ্রহরীর। আমরা রাতে জরুরি বিভাগের পাশে চিকিৎসকদের যে রুম আছে সেখানে থাকি। রোগী এলে ফার্মাসিস্ট ও নৈশপ্রহরীরা আমাদের ডেকে নেয়। টেবিলের ওপরে কুকুর উঠে ঘুমানোর বিষয়টি আমি দেখেনি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুশান্ত বৈদ্য বলেন, ‘জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসকের টেবিলের ওপরে কুকুর উঠে ঘুমানোর ছবিটি আমি দেখেছি। পরে দায়িত্বে অবহেলার কারণে ওই রাতে কর্মরত ফার্মাসিস্ট দিপক বিশ্বাস ও নৈশপ্রহরী হালিম শেখকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়েছে। তারা সন্তোষজনক জবাব না দিতে পারলে তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

8 − one =