কেউ দেখে শেখে, কেউ ঠেকে শিখে, লাস্ট ফোনকলের গল্প

অথর
জে এন এস নিউজ ডেক্স :   কুষ্টিয়া
প্রকাশিত :২৭ মে ২০২১, ৮:০৫ অপরাহ্ণ | পঠিত : 176 বার
কেউ দেখে শেখে, কেউ ঠেকে শিখে, লাস্ট ফোনকলের গল্প

ফোন কল ক্রিং ক্রিং ক্রিং
মেয়ে : হ্যালো! হ্যালো!চুপ কেনও ?
ছেলে : কেমন আছ ?
মেয়ে : কে আপনি ?
ছেলে : এতো তারাতারি অচেনা হয়ে গেলাম !
মেয়ে : মানে ?
ছেলে : চিনতে পারছ না ?
মেয়ে : না ! কে আপনি ?
ছেলে : তা হলে পরিচয় না দেওয়ায় ভালো ! কারন এসময় সুধু রিংটোন শুনেই বুঝতে পারতে আমি।
মেয়ে : ও তুমি!
ছেলে : যাক চিনতে পেরেছে তাহলে?
মেয়ে : কেন ফোন করেছ?
ছেলে : স্যরি এসব কথা বলার জন্য।
মেয়ে : সেটার আর দরকার নেই,আমার যা বলার আমি সেদিনই বলে দিয়েছি।
ছেলে : তুমি তো খুব সহজ করে বলেদিয়েছিলে। কিন্তু আমি যে খুব সহজে মেনে নিতে পারিনাই।
মেয়ে : আমার কিছু করার ছিলোনা।
ছেলে : সত্যি কি করার ছিলোনা নাকি করতে চাওনি?
মেয়ে : তুমি যা ভাবো।
ছেলে : আমার কি কিছু করার মতো ছিলো তুমাকে ছাড়া?
মেয়ে : কিন্তু আমার কোন অপশন ছিলোনা।
ছেলে : তুমি কি তার সাথে সূখে আছো?
মেয়ে : হ্যা,অনেক
ছেলে : হূম!ভালো,আমার অপরাধটা কি ছিলো,জানতে পারি?
মেয়ে : তুমার কোন অপরাধ নেই,অপরাধ টা হলো আমাদের রিলেশনের। আসলে তুমার সাথে আমার ম্যাচিং হয়না।
ছেলে : পৃথিবীতে তো কেউ পারফেক্ট না। ভালবাসা মানেই তো তাকে ভালবাসা দিয়ে নিজের মতো করে গড়ে তোলা।
মেয়ে : হবে হয়তো
ছেলে : আচ্ছা আমি কি এতটায় অযোগ্য ছিলাম?
মেয়ে : হ্যা
ছেলে : আমার উপহার গুলো ছোট হলেও তার মাঝে ভালবাসা গুলো বৃহৎ ছিলো।
মেয়ে : সেটা তুমার কাছে,আমার কাছে না।
ছেলে : সব জেনেইতো ভালবেসেছিলে,তাহলে কাদালে কেনঃ উত্তর দাও
মেয়ে : আমি তুমার জন্য না।
ছেলে : তাহলে শুরূতে বলে দিতে,আমি ফিরে যেতাম।
মেয়ে : তখনতো বুঝতে পারি নি।
ছেলে : তোমার একটা বুঝতে না পারাই আজ আমার জীবন টা কষ্টের।
মেয়ে : স্যরি
ছেলে : এটা বলা খুব সহজ। যাইহোক তুমি চলে যাওয়ার কিছুদিন পর আমি একটু ভাবলাম, আমি তো বেকার ছিলাম না আমি তো প্রতি মাসে একটি ডিসি যেই কয় টাকা বেতন পায় তার চেয়ে বেশি উপার্জন করতাম। আমার বাবা নেই, শুধু মা আছে। এই আমার ইনকাম কি যথেষ্ট ছিলোনা আমাদের সংসারে,জানো? ঘরটা যদি বিজুনির ছউনিরও হয় আর তাতে যদি ভালোবাসা থাকে সেটা কোটি টাকার চেয়েও দামি। আফসোস সেটা তুমি বুঝলেনা। যার জন্য তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গেছো সে তুমাকে দামি উপহার দিয়ে সুখি করতে পারবে,কিন্তু মনের শান্তি দিতে পারবেনা।
মেয়ে : হবে হয়তো
ছেলে : আচ্ছা ভালো করেছো চলে গেছো। তুমি না গেলে বুঝতাম না জিবনটা কি?
মেয়ে : কী বুঝেছো?
ছেলে : এ পৃথীবিতে ভালোবাসাগুলো সত্যি মূল্যহীন। দামী উপহার আর প্রিয় মানুষ্টার সব ইচ্ছা আবদার পূরন করতে পারলে সে পারপেক্ট।
মেয়ে : এমন টা নই।
ছেলে : জানো? আজ আমার সব আছে শুধু তুমি নেই।
মেয়ে : থাকলে কি করতে?
ছেলে : টাকা দিয়ে জীবন চালাতে পারবো।কিন্তু জিবন গোছাতে ভালবাসা চাই।
মেয়ে : অন্য কাউকে ভালবাসো?
ছেলে: হ্যা,বসবো। তবে রিলেশন নই একেবারে বিয়ে। তবে নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে।
মেয়ে : কেন?
ছেলে : যাকে আমি বিয়ে করবো তাকে এই ভালোবাসা দিতে পারবোনা। আচ্ছা তুমার অনেক সময় নষ্ট করলাম। এখন বাই। শুধু তুমাকে মিস করছিলাম বলে———আমার কি ভাগ্য
যে আননোন নাম্বার থেকে কল দিতে হলো। তুমার কন্ঠটা শুনার জন্য। ভুল হলে ক্ষমা করো।
মেয়ে : শোন
ছেলে : হূম। বলো
মেয়ে : তুমার ভালবাসা সত্যি ছিলো। সে আমাকে রেখে চলে গেছে,সুন্দরি মেয়ে পেয়ে।
ছেলে : মোহ কেটে গেলে এমনি হয়। আমার ভালোবাসায় মোহ ছিলনা, তার ভালবাসায় মোহ ছিল। তাই চলে গেছে।
মেয়ে : তুমাকে বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সাহস করতে পারিনি। ভাবছিলাম তুমি মানবেনা।
ছেলে : না মানার কি আছে। আমি জানতাম এমন কিছু হবে। আমি বারবার বলেছিলাম। বাই
মেয়ে : শুনো
ছেলে : বলো
মেয়ে : যদি ফিরে আসি আমাকে গ্রহণ করবে?
ছেলে : আগে যদি বলতে হয়তো মেনে নিতাম। একটা সুযোগ দিতাম কিন্তু এখন পারবোনা।
মেয়ে: কেন?
ছেলে : সামনের শুক্রবারে আমার বিয়ে। মা মারা যাওয়ার পর থেকে আমি বড্ড একা হয়ে পড়েছি। অনেকদিন ধরে বাড়ির লোকজন এ ব্যাপারটা নিয়ে খুব চাপাচাপি করতে ছিল তাই আমিও ভাইয়ার ভাবির পছন্দমতো পাত্রীকে বিয়ে করতে রাজি হলাম। জিবন কতটা অদ্ভূদ আমি যখন তুমাকে চেয়েছিলাম
তখন তুমি অন্য কারো, আর এখন যখন তুমি আমাকে চাইচো আমি অন্য কারো। আচ্ছা বাই ভালো থেকো। নিজের খেয়াল রেখো।
মেয়ে : ……………………………………
এভাবে শেষ হয়ে যায় ভালোবাসা!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × four =