কুষ্টিয়ায় লাল রঙের তেঁতুল

অথর
জে এন এস নিউজ ডেক্স :   কুষ্টিয়া
প্রকাশিত :২৬ অক্টোবর ২০২১, ২:৪১ অপরাহ্ণ | পঠিত : 51 বার
কুষ্টিয়ায় লাল রঙের তেঁতুল

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : বাইরে সবুজ, ভেতরটা লাল। এরকম তেঁতুলের গাছ রয়েছে কুষ্টিয়ার খোকসায় হিজলাবট গ্রামে। তেঁতুল হাতে পেলেই সবাই প্রথমেই ভেঙে দেখেন কতটা লাল। স্থানীয়রা জানান, একই আকৃতির তেঁতুল গাছ তিনটি বেশ প্রাচীন। এই তেঁতুল গাছের সঙ্গে বৃটিশদের নীলকর, ৪৭ এর দেশভাগের ইতিহাস জড়িয়ে আছে। গড়াই নদী পাড়ের এই তেঁতুল গাছ তিনটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তিনটি গাছ যেমন দেখতে একই রকম, বাইরে থেকে দেখতে এর তেঁতুলও একই রকম সবুজ। কিন্তু একটির তেঁতুলের ভেতরটা রক্তরঙা লাল। ভাঙলে সহজেই বোঝা যায়। অপর একটির তেঁতুলের ভেতরটা কিছুটা লাল, অন্যটি স্বাভাবিক। প্রায় সারা বছরই এসব গাছে থোকায় থোকায় তেঁতুল ধরে থাকে।
শিশু কিশোররা তেঁতুল পাড়তে প্রতিদিনই গাছে ওঠে। কেউ কেউ ঘরের টিনের চালার ওপরে উঠে লগি দিয়ে তেঁতুল পাড়েন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উপর থেকে পড়েই তেঁতুল ভেঙে যায়। বেরিয়ে আসে লাল রঙ। যারা কুঁড়িয়ে তোলেন তারা সবাই প্রথমেই তেঁতুল ভেঙে দেখেন কতটা লাল।
খোকসা উপজেলার হিজলাবট গ্রামের তেঁতুল গাছগুলো নিয়ে রয়েছে নানান গল্প। কেউ বলেন অন্তত: দেড়শ বছর বয়স হবে গাছগুলোর, কেউ আবার মনে করেন দুশো বছরেরও বেশি হবে।
এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি মুন্সী মোকাররম হোসেন ঝান্টু বলেন, এই হিজলাবট এলাকা এক সময় জনশূন্য ছিলো। আর বসতি ছিলো গড়াই নদীর পাড়ে। নদী ভাঙতে ভাঙতে সরে এসেছে। এখন এখানে বসতি হয়েছে। এই এলাকায় ব্রিটিশ আমলে নীল চাষ হতো। সেই সময়ের এসব তেঁতুল গাছ। পরে পার্শ্ববর্তী জোতবয়রা গ্রামের মৈত্রী পরিবার এসব জায়গা কিনে নেন। ওই পরিবারের হিরন্ময় মৈত্রীর সঙ্গে বিয়ে করে এলাকায় আসেন কানন বালা নামের এক নায়িকা। তিনি এখানে ৬ মাস বসবাসও করেছেন। ৪৭ এর দেশ ভাগের পর এসব জায়গা ফেলে মৈত্রীরা ভারতে চলে যান। এরপর থেকে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে সরকারের তত্ত্বাবধানে আছে। জেলা পরিষদ থেকে এসব জায়গা লিজ নিয়েছেন স্থানীয়রা। এর মধ্যে তেঁতুল গাছ সমেত জায়গা লিজ নিয়েছেন পারভেজ উল আলম রাজন। তিনি বলেন, তেঁতুল গাছ সবার জন্য উন্মুক্ত। যে যেমন খুশি পেড়ে নিয়ে যান। তেঁতুল গাছ, নীল কুঠির অফিস ও গড়াই নদীর পাড় এগুলোকে কেন্দ্র করে হিজলাবটে পর্যটন কেন্দ্র করারও দাবি জানান তিনি।
আকর্ষণীয় লালরঙা এ তেঁতুল গাছ নিয়ে খুশি এলাকার মানুষ। দূর থেকেও অনেকেই দেখতে আসেন। সবারই দাবি- বিশেষ এ তেঁতুল গাছ সংরক্ষণে উদ্যোগ নেয়া হোক। ওসমানপুর ইউনিয়নের সাবেক সদস্য জাহানারা বেগম বলেন, উদ্যোগ সরকারি হোক আর বেসরকারি হোক তেঁতুল গাছ সংরক্ষণ করতে হবে। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক আহসান কবীর রানা জানান, প্রজননের সময় ক্রোমজমের বিন্যাসে ক্রসিং ওভার হওয়ায় নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হয়ে থাকে। এই তেঁতুল গাছের ক্ষেত্রেও এটা হয়ে থাকতে পারে। অনেক সময় নতুন বৈশিষ্ট্য টেকসই হয় আবার বিলুপ্তও হয়ে যায়। এসব প্রকৃতির খেলা। তবে এই লাল তেঁতুলের ক্ষেত্রে কী ঘটেছে তা জিনগত বিন্যাস পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত হওয়ার কোন উপায় নেই। গবেষণা এবং সংরক্ষণের জন্য এর পরীক্ষা হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বলেন, ঐতিয্যবাহী তেঁতুল গাছ টিকিয়ে রাখা দরকার। দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি এর ঔষধী গুণও আছে। সেই সাথে এই লাল তেঁতুল নিয়ে খুশি দর্শনার্থীরা। তাই পর্যটন সম্ভাবনাও আছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four − one =