কুষ্টিয়ায় নোংরা রাজনীতির বলীতে বাড়ছে অস্থিরতা

অথর
Ruhul Amin  Kushtia, Dhaka, Bangladesh-
প্রকাশিত :২ জুন ২০২২, ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ | পঠিত : 71 বার
কুষ্টিয়ায় নোংরা রাজনীতির বলীতে বাড়ছে অস্থিরতা মোঃ রুহুল আমিন

হটাৎ করেই কুষ্টিয়া জেলার আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে, বিগত ১মাসে ১০ খুন, এছাড়াও এ মাসেই বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও লুটপাটের ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় শতাধিক মানুষ, কিন্তু কেন হটাৎ করেই অস্থির হয়ে উঠলো কুষ্টিয়া? এর পিছনের কারন কি? খুনের ধরণ গুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায়, এসব ঘটনার অধিকাংশ ঘটনায় রাজনীতির অন্তরালে ক্ষমতা বিস্তার বা প্রভাব বিস্তারই মুল কারন, মুলত নোংড়া রাজনীতির বলী হতে হয়েছে অধিকাংশ নিহতদের। নিহতদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের কর্মী বলে জানা গেছে আবার এসব ঘটনায় অভিযোগের তীরও আওয়ামী লীগারদের দিকে, তাহলে কেন এ ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত?বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি গনতন্ত্রে বিশ্বাসী ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল,এ দলে কোনো খুনি লুটেরাদের স্থান নেই তা হলে এসব খুনী চক্র এ দলে ঢুকলো কিভাবে, কারা এদের আশ্রয় -প্রচ্ছয় দিচ্ছে এ প্রশ্ন এখন আমজনতার ।

কুষ্টিয়ার রাজনীতির একটু পিছনে তাকালেই অনেকটা পরিস্কার ধারণা পাওয়া যাবে,৭৫এর পর থেকে ২০০৮সাল পর্যন্ত কুষ্টিয়ার রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ পিছিয়ে ছিলো এ সময়ের মধ্যে দল ক্ষমতায় এলোও কোন এমপি মন্ত্রী ছিলো না।এ দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের হয়ে রাজপথে লড়াই চালিয়ে গেছেন হাতে গোনা কয়েকজন ত্যাগী নেতা।কিন্তু ২০০৮সালে দল ক্ষমতায় এলেও সে সময়কার ত্যাগী নেতা কর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি, এ সব ত্যাগী নেতারা দলের দুঃসময়ে ত্যাগ করেছেন নিজের সুখ আর দলের সুসময়ে ত্যাগ করছেন দলের সুখ!আসলেই এরা সর্ব ত্যাগী নেতা কর্মী। আমার মনে আছে ১৯৯২-৯৩-৯৪সালের দিকে কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের জন্য লোক খুজে পাওয়া যেতো না।আর আজ অবস্থা ঠিক তার উল্টো, আওয়ামী লীগ বাদ দিলে কুষ্টিয়ায় কোনো মানুষ নেই, সবাই আওয়ামী লীগার,প্রশ্ন হচ্ছে কোথায় ছিলো এসব আওয়ামী লীগার।এদের পরিচয় প্রকাশ এখন সময়ের দাবী,কেননা এরাই দেশের ক্ষতি করে চলেছে,সব জায়গায় এদের বিচরণ এরাই ক্ষমতার নিয়ামক। এরা দলের নাম ভাঙীয়ে করছে টেন্ডারবাজী, দেশের উন্নয়নকে পুঁজি করে টেন্ডারবাজরা নিজেদের আখের গুছিয়ে নিচ্ছে ফলে সরকারের উন্নয়ন হচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ।এরাই অবৈধভাবে মজুদদার সেজে সিন্ডিকেট তৈরি করে বাড়াচ্ছে চাল-তেল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম,এরাই সরকারকে ডুবানোর জন্য যথেষ্ট। দলের পরিচয় দিয়ে এরাই তৈরি করছে বিচারহীনতা।

ফলে আওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচী ভেস্তে যাচ্ছে দলের ভিতরে লুকিয়ে থাকা সুবিধাবাদিদের জন্য। তাই জাতীর স্বার্থে ও আওয়ামী লীগের স্বার্থে এসব সুবিধাবাদি লোকদের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করতে হবে। আর এদের আসল পরিচয় কারোরই অজানা নয়,এরাই তারা যারা তেলবাজি আর চামচামিতে ব্যাস্ত থাকে সবসময়। এ সব ধান্ধাবাজ রাজনৈতিক সুবিধাবাদীদের রাজনীতি থেকে দুরে রাখতে পারলেই সমাজে বিরাজ করবে শান্তি, বন্ধ হবে রাজনৈতিক হানাহানি, দেশের উন্নয়ন হবে ত্বরান্বিত। ভালো থাকুক প্রিয় জন্ম ভূমি। জয় বাংলা।।
লেখক
মোঃ রুহুল আমিন
সাংবাদিক ও কলামিস্ট

সংবাদটি শেয়ার করুন

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published.