কাগুজে ডাক্তার, ডিপ্লোমা নার্স দিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠান

কুষ্টিয়ার বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকের করুন চিত্র, পর্ব -৩

অথর
জে এন এস নিউজ ডেক্স :   কুষ্টিয়া
প্রকাশিত :৩১ মে ২০২১, ৬:২৮ অপরাহ্ণ | পঠিত : 19 বার
কুষ্টিয়ার বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকের করুন চিত্র, পর্ব -৩

রুহুল আমিন : “জন্মই যখন হয় অবৈধ উপায়ে তখন কর্ম তো ভালো হবে না”এই চিরন্তন সত্য কথাটির বাস্তব প্রতিফলন ঘটছে কুষ্টিয়ার বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে।বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রেজিষ্ট্রেশন বা নিবন্ধন করার সময় সরকারের বেধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এম,বি,বি,এস ডাক্তার ও ডিপ্লোমা নার্সের তালিকা সংযোজন করতে হয়, তাদের নাম ও কর্মের উপরই মুলত বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের রেজিষ্ট্রেশন বা নিবন্ধন দেওয়া হয়।সেক্ষেত্রে লাইসেন্স দেয়া হয় ১০ বেডের হাসপাতাল বা ক্লিনিক হিসেবে এক বছরের জন্য৷ প্রতি বছর লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়৷ এই হাসপাতালের লাইসেন্স পেতে হলে কমপক্ষে তিন জন এমবিবিএস ডাক্তার, ছয় জন নার্স ও দুইজন ক্লিনার থাকতে হবে৷ প্রত্যেকটি বেডের জন্য ৮০ বর্গফুট জায়গা থাকতে হবে৷ অপারেশন থিয়েটার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হতে হবে৷ আর সেখানে কি কি আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকতে হবে তাও বলা আছে৷ এরসঙ্গে ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন নাম্বার, বিআইএন নাম্বার, পরিবেশ এবং নারকোটিকস-এর লাইসেন্স লাগবে৷ অপারেশন থিয়েটারের জন্য নারকোটিকস-এর লাইসেন্স বাধ্যতামূলক৷ তবে আউটডোর, এমার্জেন্সি এবং অপারেশন থিয়েটার বাধ্যতামূলক নয়৷ হাসপাতালের ধরন অনুযায়ী শর্ত থাকে৷ আবেদনের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন উপ-পরিচালকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম সরেজমিন পরিদর্শন করে লাইসেন্স দেয়৷ লাইসেন্স নিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ৪০ হাজার টাকা লাগে৷
১০ বেডই প্রাইভেট হাসপাতালের ইউনিট৷ এরপর বেড বেশি হলে আনুপাতিক হারে জনবল বাড়ে। বাস্তবতা হচ্ছে কুষ্টিয়ার প্রায় প্রতিটি ছোট-বড় সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক চালুর সময় এম,বি,বি,এস ডাক্তারদের রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র টাকার বিনিময়ে ব্যবহার করা হয়,এসব ডাক্তাররা এসব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কাজ করেন না,অথচ তাদের নামেই সারা বছর চলে হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলো,ডিপ্লোমা নার্সের ব্যাপারেও একই কথা প্রযোজ্য, তাদের সার্টিফিকেটও অর্থের বিনিময়ে ব্যবহার করা হয়,খোঁজ নিলে দেখা যাবে, বর্তমানে চাকরি করছে এক জায়গায়,সার্টিফিকেট জমা আছে আরেক প্রতিষ্ঠানে।এভাবে কুষ্টিয়ার বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলো কাগজের উপর ভর করে ব্যবসা করে আসছে।ফলে সারা বছর তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ডাক্তার খুজে পাওয়া যায় না, তাদের ডাক্তার আছে কাগজে-কলমে। তাদের ডিপ্লোমা নার্স খুজে পাওয়া যায় না,তাদের কাগজের নার্স কর্মরত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে।এ ভাবে চলছে কুষ্টিয়ার বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলো, দেখার কেউ নেই। এখন আবার অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন পদ্ধতি চালু হওয়ায় বাড়তি সুবিধা ভোগ করছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মালিকেরা।২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে অনলাইন পদ্ধতি চালু হয়৷ লাইসেন্স
নবায়ন না করলে কি হয়?
লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করলে বা নবান না করলে লাইসেন্স বাতিল করার বিধান আছে বলে জানান স্বাস্থ বিভাগে কর্মরত কর্তারা৷ তবে অধিদপ্তর লাইসেন্স বাতিল করতে পারেনা৷ পারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়৷ অধিদপ্তর মৌখিক এবং লিখিতভাবে তাদের সতর্ক করতে পারে৷ ১৫ দিন সময় দিয়ে হাসপতাল সাময়িক বন্ধের জন্য নোটিশ দিতে পারে৷ মেবাইল কোর্ট পরিচালনা করে শাস্তি দিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five − 3 =