করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও চলছে কোচিং, প্রাইভেট বানিজ্য

অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস করানো হয় না

অথর
জে এন এস নিউজ ডেক্স :   কুষ্টিয়া
প্রকাশিত :১১ জুন ২০২১, ৪:১১ অপরাহ্ণ | পঠিত : 58 বার
করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও চলছে কোচিং, প্রাইভেট বানিজ্য

রুহুল আমিন ॥ মহান ও নিবেদিত পেশা হিসেবে শিক্ষকতা সর্বজন স্বীকৃত। এমন কোন পেশা নেই যা সম্মানের দিক থেকে শিক্ষকতার সমান হতে পারে। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবেই মনে করা হয় শিক্ষকদের। শিক্ষা মানুষের একটি মৌলিক অধিকার ও জাতীয় উন্নয়নের মাপকাঠি। কিন্তু কিছু কোচিংবাজ, প্রাইভেটবাজ শিক্ষকদের কারণে শিক্ষক সমাজ আজ প্রশ্নবৃদ্ধ। ৮০/৮৫ ভাগ শিক্ষক যদি সরকার প্রদত্ত বেতনভাতায় চলতে পারে তবে ১৫/২০ ভাগ শিক্ষক কেন চলতে পারেন না, তাদের সরকারী নির্দেশ মানতে সমস্যা কোথায়? গত সপ্তাহে ভেড়ামারায় একটি প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। ওই প্রতিষ্ঠানটি করোনার এই বিশেষ লক ডাউনের মধ্যেই সরকারের সকল নিয়ম নিতি ভঙ্গ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টি চালাচ্ছিলো, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব ও অনেকের মুখে মাস্ক ছিলো না। এসময় প্রতিষ্ঠানের মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রামম্যাণ আদালতের বিচার ভেড়ামাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিনেশ সরকার, তিনি জানান, ‘সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এসময় প্রতিষ্ঠান টি বন্ধের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। অন্যদিকে, কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়া,কোর্ট স্টেশনের আশপাশ এলাকা,রাইনী বটতলা,আড়ুয়াপাড়া সহ শরহের অলি-গলিতে( যেখানে শিক্ষকদের বসবাস)প্রাইভেট ও কোচিং করানো হচ্ছে। কোচিং সেন্টারগুলোর আশে-পাশের দোকান ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, করোনাভাইরাসের প্রথম সময়ে কোচিংগুলো বন্ধ ছিলো। পরে আস্তে আস্তে সব কোচিং সেন্টার খুলতে শুরু করেছেন শিক্ষকরা। তবে করোনার মধ্যে কোচিংগুলো খোলা থাকলেও প্রশাসন তেমন ব্যবস্থা নেয়নি। একইভাবে চলছে জেলার দৌলতপুর, মিরপুর,ভেড়ামারা, কুমারখালী ও খোকসা উপজেলার কোচিং ও প্রাইভেট সেন্টার গুলি।শিক্ষার গুনগত উন্নয়ন ছাড়া জাতীয় উন্নয়ন সম্ভাব নয়। দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান মাপকাঠি হচ্ছে শিক্ষা।

কিন্তু পাঠদানে আত্ম-নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিহিত থাকা সুপ্ত মেধা জাগ্রত করা, দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিজের অর্থ ব্যয়ে দেশ সেরা হিসেবে গড়ে তোলা শিক্ষকও দেশে বিরল নয়। এ জন্যই সমাজে শিক্ষকরা সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, শিক্ষার্থীরাও যুগে যুগে স্মরণ রাখেন তাদের। তবে কিছু শিক্ষকের অনৈতিকতা ও অর্থলিপ্সায় ভূলণ্ঠিত হতে চলেছে গোটা শিক্ষক সমাজের মর্যাদা। প্রশ্ন উঠেছে তাদের দায়িত্ববোধ, আন্তরিকতা ও নৈতিকতা নিয়ে। ক্লাসে পাঠদানের পরিবর্তে কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকা, সরাকারী নির্দেশ মতে, প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রতিদিন ৬ ঘন্টা পাঠদান করার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠান প্রধান, শিক্ষকদের যোগসাজসে চলে ৩/৪ ঘন্টা আর তথাকথিত হাফডের অজুহাতে বৃহস্পতিবার চলে মাত্র ২/৩ ঘন্টা ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই কোচিং প্রাইভেট করার জন্য সুযোগ করে দিচ্ছেন। আর করোনা ভাইরাসের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে সব ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, তবে অনলাইন ক্লাস চালু রাখার নির্দেশনা থাকলেও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সে নির্দেশনা পালন করেন না। ফলে সরকারের বিনামূল্যে পাঠ্য বই, উপবৃত্তি কার্যক্রম কোন কাজে আসে না। বেসকারী কলেজ, মাদ্রাসাগুলির অবস্থা আরও করুন সেখানে পাঠদানের কোন নির্দেশনা মানা হয়না। চলে শিক্ষক কর্মচারীদের কথিত অফডে, ৬ দিনে শিক্ষকগণ আসেন ২/৩দিন। ২/১টি ক্লাস থাকে, ক্লাস করার ১০ মিনিট পূর্বে আসেন ক্লাস করে বাড়ী চলে যান কিন্তু বেতন নেন পুরো মাসের। এর জন্য ম্যানেজ করতে হয় কিছু কিছু ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের। শিক্ষাদানের চেয়ে অর্থ উপার্জনেই বেশি মনোযোগী হওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। শিক্ষকতার প্রতি চিরাচরিত অঙ্গীকার ভুলে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত কোচিং সেন্টারে পড়তে বাধ্য করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। নির্দেশ না মানলেই নম্বর কমিয়ে দেয়া, নানা ক্ষেত্রে নিগৃহীত করা এমনকি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটাচ্ছেন কোন কোন শিক্ষক।

প্রবীণ শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষকদের নিজেদের কারণেই তাদের সম্মান কমছে। একটি শিক্ষার্থী যদি শ্রেণী কক্ষে ৬ ঘন্টা থাকে, কোচিং প্রাইভেটে ৬ ঘন্টা, যাতায়াতের জন্য যায় ১/২ ঘন্টা, ৩ বার খাবার, গোসুল করতে যায় আরও ৩ ঘন্টা, ঘুম ৬/৮ ঘন্টা তবে সে বাড়ীতে পড়ার সময় কখনও পায়না, সে ভাল ফলাফল করবে কিভাবে। শিক্ষকগণ ক্লাসরুম ছেড়ে আর্থিক লোভে চেম্বার কেন্দ্রিক (কোচিং সেন্টার-প্রাইভেট) মনোযোগী হয়ে উঠেছেন। কোচিং বাণিজ্য বন্ধে ডা. ডীপু মনি বার বার নির্দেশনা দিলেও কোন কিছুই আমলে নিচ্ছেন না তারা। যাদের কথায় শিক্ষার্থীরা অনুগত হয়ে ওঠে সেই শিক্ষকদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গলী প্রদর্শনের। শিক্ষা পরিবারের সর্বোচ্চ অভিভাবক খোদ শিক্ষা মন্ত্রী ক্ষোভ ও সতকর্তাও যেনো দাগ কাটছেনা তাদের মনে। বরং নিজ গতিতেই কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের কোচিং ও প্রাইভেট বানিজ্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 − five =