এক অকুতোভয় মুজিব সেনা’র নাম আজগর আলী

অথর
জে এন এস নিউজ ডেক্স :   কুষ্টিয়া
প্রকাশিত :৭ জুন ২০২১, ১০:৪০ অপরাহ্ণ | পঠিত : 9 বার
এক অকুতোভয় মুজিব  সেনা’র নাম আজগর আলী

রুহুল আমিন ॥ কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের এক সংগ্রামী নেতা,যিনি অল্প বয়স থেকে রাজনৈতিক আন্দোলন – সংগ্রাম করে চলেছেন, এখনো পর্যন্ত যিনি একজন অকুতোভয় মুজিব সেনা হিসেবে রাজনীতির মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন, তিনি হচ্ছেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আজগর আলী। একান্ত আলাপচারিতায় জানা গেলো তার সম্পর্কে অনেক কথা,জয়যাত্রার পাঠকদের উদ্দেশ্যে কথোপকথনের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো,১৯৪৯ সালে জন্ম নেয়া আজগর আলী ১৬/১৭ বছর বয়সে হাই স্কুলের জিবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করেন ,ততকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ পিড়নের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষ যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ঐক্য বদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলছেন তখন গ্রামের স্কুলে ৯ম শ্রেণিতে পড়া সদ্য কৈশোর পেড়িয়ে যৌবনে পা দেওয়া আজগর আলী ছাত্র লীগের হাতধরে রাজনিতির মঞ্চে পদার্পণ করেন,কে জানত এই আজগর আলী বড় হয়ে একদিন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের কান্ডারি হবেন।সেই শুরু, এরপর ৬৮/৬৯ সালে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে থেকে ছাত্র লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় কার্যক্রম শুরু করেন,তখনকার দিনে কুষ্টিয়ার ইতিহাসে তুখোর ছাত্রলীগ নেতা, পরবর্তীতে যারা মুলধারা রাজনীতিতে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা তাদের মধ্যে রাশিদুজ্জামান দুদু,গিয়াসউদ্দিন আহম্মেদ মিন্টু সহ অনেককের সাথে রাজনৈতিক সহ যোদ্ধা হিসেবে ছিলেন,এবং এই সময়ে আজগর আলী একজন ছাত্র নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।সে সময়ে তাদের নেতৃত্বে কুষ্টিয়াতে গড়ে উঠে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, এরপর শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ,সেই রণাঙ্গনে এক অনন্য ভুমিকা পালন করেন তিনি,মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ছদ্বনাম “নিয়াম চৌধুরী ” পরিচয় দিয়ে প্রকাশ করেন একটি পত্রিকা, যার নাম ছিলো “বাংলাদেশ মুক্তি বাহিনীর মুখ “, মুক্তি যোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা যোগাতে কার্যকর ভুমিকা পালন করতো পত্রিকাটি,এটি গোপনে ছাপা হতো শৈলকুপার বেনীপুর হাইস্কুল থেকে।এরপর দেশ স্বাধীনের পর আবারও ছাত্র লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় কার্যক্রম শুরু করেন, ১৯৭২ সালে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদে জিএস হন।এভাবেই কুষ্টিয়ার রাজনিতিতে এক অবিস্মরণীয় নাম হয়ে উঠে ” আজগর আলী”।এরপর আসে ৭৫ ‘ র পটভূমি, বঙ্গবন্ধুকে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়,বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদের জন্য আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করেন এই অকুতোভয় মুজিব সেনা, কিন্তু বিভিন্ন জনের সাথে যোগাযোগ করেও কোনো কিনারা করতে পারেন নি,সেই কষ্ট আজও মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে রেখেছে। তারপর আওয়ামী লীগের সাথে থেকে অনেক আন্দোলন – সংগ্রামে যুক্ত থেকেছেন তিনি,রাজনৈতিক ভাবে বিএনপি – জামাতের আক্রোশের শিকার হয়ে কারাবাস করেছেন,কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেন নি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাকেও দিয়েছে যোগ্য সম্মান, ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন তিনি,এ রকম গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে অনেকেই তাদের নৈতিক চরিত্র হারিয়ে ফেলেন,কিন্তু তিনি তাদের দলে নন,দির্ঘ দিন ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলেও এখনো তিনি ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবেই পরিচিত, দূর্নীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নেই তার বিরুদ্ধে, কর্মী বান্ধব এই নেতা সব সময় আছেন কর্মীদের সহযোগিতায়।তিনি একান্ত আলাপচারিতায় বলেন, আমি সৌভাগ্যবান এই জন্য যে,আমি দল পরিচালনার সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কুষ্টিয়ার কৃতী সন্তান জননেতা মাহবুব-উল আলম হানিফ কে পেয়েছি, তার দিক নির্দেশনায় কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ এগিয়ে যাচ্ছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,তৃণমূল পর্যায়ে আমাদের কিছু দূর্বলতা রয়েছে, যার জন্য সাধারণ জনগণের পুরোপুরি আস্থা এখনো অর্জন করতে পারিনি,তবে এ সমস্যা কাটিয়ে উঠে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী হবে।অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের কান্ডারী মাহাবুব-উল আলম হানিফ সাহেব কুষ্টিয়ারই সন্তান, তিনি সবাই কে চেনেন,দলের প্রার্থী হিসেবে যাকে দল যোগ্য মনে করবে, দলের মনোনয়ন সেই পাবে। সবশেষ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি রাজনীতি করি, রাজনৈতিক কারনে জেলে যেতেই পারি,কিন্তু দূর্নীতির কারনে জেলে যাবো না,কেননা দূর্নীতি আমি করিনা আর দূর্নীতিবাজদের পছন্দ করি না।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × four =