সূত্রাপুর থানার দুই কর্মকর্তা গ্রেফতার

ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে পুলিশের চাঁদাবাজি

অথর
জে এন এস নিউজ ডেক্স :   কুষ্টিয়া
প্রকাশিত :২৩ জুন ২০২১, ১০:০১ অপরাহ্ণ | পঠিত : 57 বার
ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে পুলিশের চাঁদাবাজি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে সূত্রাপুর থানা পুলিশের এসআই রহমাত উল্লাহ ও এএসআই রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পল্টন থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পর নাজমুল হক সুমন নামের এক ভুক্তভোগী পল্টন থানায় ওই দুজনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেছেন। গতকাল বিকেলে পল্টন থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক ইনকিলাবকে বলেন, গত ২০ জুন পল্টন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সেন্টু মিয়ার নেতৃত্বে একটি দল সূত্রাপুর থানায় গিয়ে রহমাত উল্লাহ ও রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের রিমান্ডে আনা হয়। আজ রিমান্ড শেষে ফের আদালতে তোলা হবে। পল্টন থানা সূত্রে জানা গেছে, একজন মাদক কারবারিকে আটকের কথা বলে সূত্রাপুরের দুজন পুলিশ শান্তিনগরে আসেন। কিন্তু তারা তাকে না ধরে সামারি করে চলে যান। তবে মামলায় মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে টাকা আদায়ের ঘটনায় প্রথমে দুজন সাধারণ ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়। পরে তাদেরকে গ্রেফতার করা হলে দুজন পুলিশ সদস্যের নাম জানান তারা। এরপরই রহমাত উল্লাহ ও রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় ফরহাদ হোসেন ও হাসিব হাসান শোভন নামে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। ভুক্তভোগী নাজমুল হকের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, তার বাসা শান্তিনগরের ইস্টার্ন পিস ভবনে। সেখানে গত ১৪ জুন রাত ৯টার দিকে সাদা পোশাকে দুজন তাদের বাসার দরজায় নক করেন। ভেতর থেকে সুমনের বাবা দরজা খুলে দিলে নিজেদের ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করেন তারা। তারা সুমনের রুমে যান। এরপর রুমের আলমারি, ওয়্যারড্রোব, বিছানা ওলট-পালট করেন। তাদের মধ্যে একজন পকেট থেকে ইয়াবার মতো দেখতে কিছু ট্যাবলেট সুমনের রুমের টেবিলের ওপরে রাখেন। আর সুমন ইয়াবার ব্যবসা করেন বলে হুমকি-ধামকি দেন। ‘বাঁচতে চাইলে’ তাদেরকে টাকা দিতে হবে বলে জানান তারা। সুমন উপায় না দেখে তার কাছে থাকা ৫৫ হাজার টাকা দিয়ে দেন। এ সময় ডিবি পরিচয় দেয়া একজন সুমনের মোবাইল ফোন হাত থেকে কেড়ে নিয়ে তার পরিচিত ফরহাদকে বাসায় আসতে বলেন। ফরহাদ রাত ১১টার দিকে সুমনের বাসায় যান। বাসায় যাওয়ার পর ডিবি পুলিশের একজন ফরহাদের হাতে হাতকড়া পরান। এ সময় তারা বলেন, ফরহাদকে ছাড়াতে হলে তার মোটরসাইকেলটি দিয়ে দিতে হবে এবং পরে ১ লাখ টাকা দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে আসতে হবে। পরিচিত বিবেচনায় টাকা দেয়ার শর্তে তারা ফরহাদকে ছেড়ে দেন। যাওয়ার সময় কোনো ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করার জন্য সতর্ক করেন এবং ফরহাদের মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান তারা। ফরহাদ ও শোভন গত ১৬ জুন বেলা ১১টায় সুমনের বাসায় আসেন। শোভন মোটরসাইকেলটি ছাড়িয়ে আনার জন্য সুমনকে চাপ দেন। ফরহাদ এ সময় ডিবি পরিচয় দেয়া দুজনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কথা বলেন এবং সুমনের সঙ্গে ফোনে ধরিয়ে দিলে তারা সুমনকে জানান, ১ লাখ টাকা পেলে তারা মোটরসাইকেল দিয়ে দেবেন। তখনও তারা বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নিতে নিষেধ করেন। পরে সুমন বুঝতে পারেন, ফরহাদ, শোভন ও ডিবি পরিচয় দেয়া দুজন যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। সূত্রাপুর থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পল্টন থানা পুলিশ। এ বিষয়ে পল্টন থানা বিস্তারিত বলতে পারবে। ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ডিসি মো. আহাদ বলেন, অন্যায়কারী পুলিশ হোক আর যেই হোক তাকে ছাড় দেয়া হবে না। দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখছি। তাদের বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে আইনানুগভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twelve + fifteen =