অনুসরণ হবে কার ? অনুসরণ হবে কিসের ?

অথর
জে এন এস নিউজ ডেক্স :   কুষ্টিয়া
প্রকাশিত :৩০ মে ২০২১, ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ | পঠিত : 26 বার
অনুসরণ হবে কার ? অনুসরণ হবে কিসের ?

“আল্লাহু আকবর”
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম,
الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَاهُمُ اللَّهُ وَأُولَئِكَ هُمْ أُولُو الْأَلْبَابِ ﴿١٨﴾
“যাহারা আল্লাহর কথা মনোযোগের সহিত শ্রবণ করে, অতপরঃ যাহা উত্তম, তাহার অনুসরণ করে, আল্লাহ তাদেরকেই হেদায়েতের পথে পরিচালিত করেন আর তাহারাই বোধশক্তি সম্পন্ন ।” (যুমার, ৩৯/১৮)
হে আমার জাতি, অধিকাংশ মানুষ ধারণা পোষণ করেন যে, আল্লাহর আনুগত্য বলতে, “কোরআনের” অনুসরণ করা, আর রসুলুল্লাহ(সঃ)-এর অনুসরণ বলতে, রসুলুল্লাহ(সঃ)-এর সুন্নাহ বা হাদিস সম্বলীত তথাকথিত আমাদের পূর্বপুরুষদের সংগ্রীহিত, “কোরআন”-এর পাশে রচিত বিভিন্ন ধর্ম গ্রন্থকে বোঝায়,-যাহা হাদিসের কিতাব নামে পরিচিত । যদিও বিভিন্ন গোত্র, দেশ বা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কাছে তাদের পছন্দনীয় হাদিসের কিতাব ভিন্ন ভিন্ন । অনেক ক্ষেত্রেই তাহা একে অপরের বিরোধী । যেহেতু কিতাব গুলো রসুলুল্লাহ(সঃ) ও তাঁর সাহাবীগণের ইন্তেকালের অনেক পরে অস্তিত্ব লাভ করেছে, তাই এই কেতাব সমূহের সত্যায়ন, আল্লাহ অথবা তার রসুল কর্তৃক হয় নাই । পক্ষান্তরে মহান কিতাব “আল-কোরআন”-ই বর্তমান পৃথিবীতে, স্বয়ং আল্লাহ কর্তৃক সত্যায়িত একমাত্র স্থায়ী নির্ভেজাল কিতাব, যেখানে জাল, জয়ীফ বা সন্দেহের কোনো অবকাশ নাই । সুন্নাহ বা হাদিসের সঙ্গা দিতে গিয়ে, প্রচলিত ধর্মীয় ব্যবস্থায় বলা হয় যে,-রসুলুল্লাহ(সঃ)-এর কথা, কর্ম আর তিনি যাহা অনুমোদন করেছেন, তাহাই হাদিস-সুন্নাহ । যাহা বর্তমান ধর্মীয় সমাজ ব্যবস্থায় আমার জাতি গষ্ঠী, তথাকথিত মুসলমান সমাজ, হাদিস গ্রন্থ নামে বহুবিধ কিতাব গ্রহণ করেছে । এই ধারণা যদি সত্য হয়, তাহলে এমন বিশ্বাসে বিশ্বাসী আমার বাপ-দাদা, পূর্বপুরুষ, জাতি গোষ্ঠীর কাছে আমার প্রশ্ন ঃ-
ধর্মের বিধান তো শ্বাশ্বতঃ, সত্য, সুন্দর এবং স্থায়ী । তাহলে, তথা কথিত হাদিসের গ্রন্থ থেকে পাওয়া যায় যে, রসুলুল্লাহ(সঃ) সেখানে অল্প বয়সী মেয়ে, আমাদের মা জননী, আয়েশা(রাঃ)-কে খুব অল্প বয়সেই বিবাহ করেছিলেন । যা আজকের সমাজে নাবালিকা তথা শাস্তি যোগ্য অপরাধ । আপনি কি চান ? যে, রসুলুল্লাহ(সঃ) আজকের সমাজের চোখে, দোষী-আসামী বলে সাব্যস্ত হোউক ? ঐ কিতাব কি রচনা হওয়া যথার্থ ? আল্লাহ কি তা চেয়েছেন ? আর “কোরআনে” কি তা বর্ণীত হয়েছে ? সর্বকালের জন্য কি তা গ্রহনযোগ্য ? আল্লাহ কি ঐ কিতাবের সত্যায়নকারী ? না, তা কখনই হতে পারে না । মহান কিতাব “আল-কোরআন”-এর সত্যায়নকারী স্বয়ং আল্লাহ । অনন্তকাল পর্যন্ত, যতদিন মানুষ “কোরআন” পড়বে । ততদিন পর্যন্ত এ “কোরআন” নবী-রসুল(সঃ)-গণের চরিত্রকে শুধুই প্রসংশিত করবে, যাহা অন্য কিতাব দ্বারা কখনোই সম্ভব নয় । আপনি কি এমন সুন্নাহ অনুসরণ করবেন ? এক্ষেত্রে হয়তো আপনার উত্তর হবে যে,- যেহেতু বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় ইমলামের সার্বভৌমত্ব নাই, তাই বাধার সম্মুখীন হওয়ায়, সুন্নাহ হওয়া সত্বেও আমরা তা পালন করতে পারছি না,- এটা আপনাদের মনঃকষ্ট ।
যদি তাই হয়, তাহলে আপনার মনঃকষ্ট দূর করতে আমি আবার প্রশ্ন করেত চাই, আপনাদের গৃহীত তথাকথিত হাদিসের কিতাবে পাওয়া যায় যে, রসুলুল্লাহ(সঃ)-এর বৈবাহিক জীবনের প্রথম সুন্নাহ ছিলো যে, তিনি পচিশ (২৫) বছর বয়সে, চল্লিশ (৪০) বছর বয়সী বিধবা রমনী খাদিজা(রাঃ)-কে বিবাহ করেছিলেন । এমন সুন্নাহ পালন করতে আপনাকে তো কেউ জেল-ফাস দিবে না । রাষ্ট্র তো এ ব্যাপারে বাধা দেওয়ার পরিবর্তে আরো খুশি হবে যে, আপনি একজন অবহেলিত নারীর পাশে দাড়িয়েছেন । আপনি কি সুন্নাহ প্রেমিক হয়ে মহান আল্লাহকে খুশি করতে, আপনার জীবনে এই সুন্নাহর অনুসরণ করেছেন ? না-কি আপনার পুত্রের জন্য এমন সুন্নাহ অনুসরণের তাগিদ দিচ্ছেন ? আসুন ভাই, সুবিধাবাদ-জিন্দাবাদ এমন আচরন পরিহার করি । তর্কের জন্য যুক্তি নয়, আসুন মহান সত্যবাণী, আল্লাহর রচিত একমাত্র “আল-কোরআন”-কে আমরা গ্রহণ করি । আর শিরকের মূলোৎপাটন করে, গয়রুল্লাহর রচিত সমস্ত কিছুকে বর্জন করি । তাহলেই আল্লাহ ও তার রসুল(সঃ) আমাদের প্রতি খুশি হবেন । আমরা কলঙ্কমুক্ত হয়ে, রসুলুল্লাহ(সঃ) ও তার সাহাবিদের সঙ্গে একই সাথে জান্নাতবাসি হবো ইনশাআল্লাহ ।
হে আমার জাতি, অনেক বড় ভুল; কিন্তু ক্ষুদ্র আকারে তোমার মনের মাঝে অবস্থান কোরে, তোমাকে মহা ধ্বংশের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যা তুমি বুঝতেই চেষ্টা করছো না । তোমার ধারণা এই যে, রসুলুল্লাহ(সঃ) আল্লাহর প্রদত্ত ওহী ব্যতিত কোনো কথাই বলেন নাই । কথাটা যথাস্থানে সত্য হলেও, তোমার ধারণা এই যে, রসুলুল্লাহ(সঃ)-এর ব্যক্তি জীবন বলে কিছু নাই । তার নবুওতি প্রাপ্তির আগের ও পরের জীবনের সব কথা ও কর্মই ওহী; আসলে ব্যপারটি এমন নয় । একমাত্র আল্লাহই ভুলত্রুটির উর্ধে, আর আল্লাহর সৃষ্টি মানুষ, কেউই ভুলত্রুটির উর্ধে নয় । রসুলুল্লাহ(সঃ), তিনিও তোমাদের মতই মানুষ । আর তাই সকলকেই ভুলত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছেই ক্ষমা চাইতে হয় । আল্লাহ বলেন,
﴿ قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ ﴾
“তুমি বলো, নিশ্চয় আমি তোমাদের মতই মানুষ ।”(কাহফ,১৮/১১০)
আল্লাহ বলেন,
وَوَجَدَكَ ضَالًّا فَهَدَى ﴿٧﴾
“আর আল্লাহ তোমাকে তো পাইলেন পথভ্রষ্ট অবস্থায়, অতপরঃ তিনিই তোমাকে হেদায়েত দান করলেন ।”(দোহা,৯৩/০৭)
আল্লাহ বলেন,
فَاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ بِالْعَشِيِّ وَالْإِبْكَارِ ﴿٥٥﴾
“অতএব, তুমি ধৈর্য্য ধারন করো । নিশ্চয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য । আর তুমি তোমার ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো, আর সকাল-সন্ধ্যায় তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংসা পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর ।” (মুমিন,৪০/৫৫)
তাই অধিক ভালোবাসার নামে রসুলুল্লাহ(সঃ)-কে ভুলত্রুটির উর্ধে গণ্য করে, আল্লাহর আসনে বসিয়ে, বিধাতা হিসাবে গ্রহণ করা মোটেও সমীচিন নয়, বরং মহাপাপ শিরক । যে অপরাধের কারণে অধিকাংশ নবী-রসুলের ইন্তেকালের পরেই, পরবর্তিতে সে জাতি পথভ্রষ্ট হয়ে পড়েছে ।
হে আমার জাতি, মনে রাখবা, রসুলুল্লাহ(সঃ) নিজের থেকে কোনো কথা বলেন নাই,-এই কথা্র অর্থ এই নয় যে,-তার ব্যক্তিগত জীবনও ওহী; বরং রসুলুল্লাহ(সঃ) নিজের থেকে কোনো কথা বলেন নাই,-এই কথার প্রকৃত অর্থ হলো এই যে, -শুধু মাত্র ওহীর ব্যাপারে রসুলুল্লাহ(সঃ) নিজের থেকে একটি কথাও বলেন নাই । যাহা কেবল মাত্র মহান শক্তিশালী আল্লাহই তাকে শিক্ষা দিছেয়েন । যে ওহীতে রসুলুল্লাহ(সঃ) নিজের থেকে কোনো কথা বানানোর চেষ্টা করলে তাঁর জীবন শিরা আল্লাহ কেটে দিতেন । তাই এ ওহী কেবল মাত্র আল্লাহর, যেখানে ভুলের কোনো সম্ভাবনাই নাই ।আর এ ওহীই হল একমাত্র “আল-কোরআন” । আল্লাহ বলেন ,
وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى ﴿١﴾ مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى ﴿٢﴾ وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى ﴿٣﴾ إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى ﴿٤﴾ عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوَى ﴿٥﴾
“শপথ, তারকা রাজির, যখন তা অস্তমিত হয় । তোমাদের সঙ্গী পথভ্রষ্ট নয় আর বিপথগামীও নয় । তিনি তো নিজের থেকে কোনো কথা বলেন নাই, এ কথা তো প্রত্যাদেশ ওহী ছাড়া কিছুই নয় । তাকে শিক্ষাদেন মহা ক্ষমতাবান মহা শক্তিশালী আল্লাহ ।”(নাজম,৫৩/১-৫)
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ।
আল্লাহ বলেন,
قُلْ أَيُّ شَيْءٍ أَكْبَرُ شَهَادَةً قُلِ اللَّهُ شَهِيدٌ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَأُوحِيَ إِلَيَّ هَذَا الْقُرْآنُ لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ أَئِنَّكُمْ لَتَشْهَدُونَ أَنَّ مَعَ اللَّهِ آلِهَةً أُخْرَى قُلْ لَا أَشْهَدُ قُلْ إِنَّمَا هُوَ إِلَهٌ وَاحِدٌ وَإِنَّنِي بَرِيءٌ مِمَّا تُشْرِكُونَ ﴿١٩﴾
“বলো, সাক্ষীতে সর্বোশ্রেষ্ট কে ? বলো, আমার আর তোমাদের মাঝে আল্লাহই সাক্ষীদাতা হিসাবে সর্বোশ্রেষ্ট । বলে দাও, নিশ্চয় আমার কাছে যাহা ওহী হয়, তাহা তো একমাত্র এই “কোরআন” । যাহা দ্বারা তোমাদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে আর সতর্ক করা হবে তাদেরকে, যাহাদের কাছে এই “কোরআন” পৌছাবে । তোমরা কি এই সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহর অবতীর্ন “কোরআন”-এর পাশে অপর কোনো ধর্ম তত্ব আছে ? তুমি বলে দাও, আমি তোমাদের মত সেই সাক্ষী দেই না, বরং তুমি বলে দাও, কেবল মাত্র বিধির বিধান হিসাবে উহা তো একমাত্র । আর নিশ্চয় বিধির একমাত্র বিধানে, তোমরা যে শরিক করছো, তা থেকে আমি নির্লিপ্ত ।” (আনআম, ৬//১৯)
নিশ্চয় রক্ষাকর্তা আর সংরক্ষণকারী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট ।
(অস্মাপ্ত, চলবে ……………)

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেয়ার করে  সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two + 19 =